দোকানে সাজানো টেলিভিশনগুলো দেখতে অবিকল নামি-দামি কোম্পানির মতো। কোনোটার গায়ে সনি ব্রাণ্ডের লগো, কোনোটাতে আবার স্যামসাং, প্যানাসনিক, ডেল আর নিপ্পনের লগো। কিন্তু যন্ত্রাংশ আমাদিন করে এসব টেলিভিশন সংযুক্ত করা হয় গুলিস্তানের সুন্দরবন মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে। শুধু টেলিভিশনই নয়, দামি ব্রান্ডের নানা ধরনের ইলেকট্রনিক পন্যও বিক্রি হয় মার্কেটটির বিভিন্ন দোকানে।
মঙ্গলবার র্যাব-৩ আর বিএসটিআইয়ের অভিযানে এসব নকল পণ্যের সন্ধান মেলে সেখানে। নকল ইলেকট্রনিক পণ্য ও নকল টেলিভিশন মজুদ ও বিক্রির দায়ে মার্কেটটিতে ৭ দোকানকে ১৩ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। ভ্রাম্যামাণ আদালত পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।
র্যাব জানায়, নকল টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রির দায়ে মক্কা এন্টারপ্রাইজের মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট। অনাদায়ে তাকে তিন মাসে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আকাশ ইলেকট্রনিপের মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, সংগীতা ডেলের মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, সামীন কর্পোরেশনের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড, জেবা এন্টারপ্রাইজের মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড, ইলেকট্রা এন্টারপ্রাইজের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমনা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড এবং মাস্টার ইলেকট্রনিপের মালিককে চার লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, গুলিস্তানে সুন্দরবন সুপার মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে সনি, স্যামসাং প্যানাসনিক, ডেল, কনকা ও নিপ্পন ব্র্যান্ডের নামে নকল টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পন্য বিক্রি হয়ে আসছিল। এতে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন। অভিযোগ পেয়ে ওই মার্কেটে অভিযান চালিয়ে সাতটি দোকান থেকে নকল পন্য জব্দ করা হয়। পরে দায় স্বীকার করায় সাতটি দোকানে মোট ১৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তা পরিশোধ করতে না পারায় দোকানগুলোর মালিকদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।