ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শারুন-মুনিয়ার সম্পর্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ‌্য দিলো মীম
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 30 April, 2021, 8:36 PM
সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 1 May, 2021, 4:36 PM

ছবি: শারুন-মুনিয়া-মীম

ছবি: শারুন-মুনিয়া-মীম

রাজধানীতে কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার ও হুইপ পুত্র নাজমুল হক চৌধুরী শারুনের সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই এবার মুখ খুললেন তার সাবেক স্ত্রী সাফিয়া রহমান মীম। সম্প্রতি সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধেও শারুনের অভিযোগের পর মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ালেন সাফিয়া রহমান মীম ।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেন শারুন ও মীম। পরের বছরের ২৪ জুন তাদের একমাত্র সন্তান সাইশা করিম চৌধুরীর জন্ম হয়। মীমের দাবি, এরপর থেকেই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনসহ, বিচ্ছেদে এবং একমাত্র শিশু সন্তানকে আটকে রাখা, মৃত্যু হুমকি এবং আত্মহত্যা করার মতো অবস্থা তৈরির মতো গুরুত্বর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

তার দাবি, আমারও আত্মহত্যার উপক্রম হয়েছিল। দিনের পর দিন এমনভাবে শারুণ আমাকে নির্যাতন করেছে, আমিও আত্মহত্যা করতে পারতাম। শুধু আমার সন্তানের কথা ভেবে সব সহ্য করেছি। এগুলো এভাবে বলতে চাইনি। ভেবেছিলাম এই সময়টাতে চুপ থাকবো। কিন্তু আর পারছি না। শারুন সংবাদমাধ্যমকে আমার চরিত্র নিয়ে যা বলেছে, তার সবই মিথ্যাচার।

চলতি মাসের প্রথমদিকে ব্যাংকার আকতার মোর্শেদ চৌধুরীর আত্মহত্যার প্ররোচনায় জড়িতদের সহযোগী হিসেবে শারুনের নাম উল্লেখ করেন তার স্ত্রী শিক্ষিকা ইশরাত জাহান চৌধুরী। এ সময় একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন, তার স্বামীকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মানসিক নির্যাতন, হুমকিসহ নানাভাবে পরিস্থিতি তৈরি করার পেছনে শারুনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এদিকে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারুনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে শারুনের সাবেক স্ত্রী মীম জানান, শারুন-মুনিয়ার সেই চ্যাট এ আমার চরিত্র নিয়ে শারুনের মন্তব্য আমি দেখেছি, তাতে আমি বিস্মিত হইনি। কারণ তার আচরণেই তার রুচিবোধ সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই টানা ৬ বছর আমি নির্যাতনের শিকার হয়েছি।

মীমের দাবি, সংবাদমাধ্যমকে তার চরিত্র নিয়ে মিথ্যা কথা বলছেন শারুন। তার প্রতি নির্যাতনের কথা শারুনের বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের প্রায় সবাই জানতেন। শেষ যেবার ওই গ্রামের বাড়িতে আমি কোরবানির ঈদ করি, তার ঠিক আগেই শারুন মেরে আমার মুখ থেঁতলে দিয়েছিল।

মীম জানান, শারুনের সাথে মুনিয়ার আগের যোগাযোগ ছিল বলেই বুধবার আমার সাথে ফোনে কথা বলতেই ওই মেয়েটির (মুনিয়ার) প্রসঙ্গ তুলে আনি। এ প্রসঙ্গে আমি তাকে( শারুনকে) প্রশ্ন করেছিলাম, ওই চ্যাটে আমাকে ক্যারেক্টারলেস কেনো বললে? বলতে পারলে কীভাবে! উত্তরে শারুন দাবি করেন, ওসব চ্যাটের স্ক্রিনশট ভুয়া। এমন দাবি করে শারুন আরো জানায়, মুনিয়ার সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কোন চ্যাট হয়নি, তবে মেসেঞ্জারে চ্যাট হত, কথা হত।

মীমের অভিযোগ, ডিভোর্সের পর আমার ক্যারেক্টার নিয়ে এতো কথা কেনো ? শারুন এমন অভিযোগ করেই অপরাধ থেকে মুক্তি পেতে চায় । এখন ও আমাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে জানা যায়, হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীর সঙ্গে তার পরিচয় ছিলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া দু’জনের কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এ সময় শারুন সাংবাদিকদের জানান, মুনিয়ার সঙ্গে কথোপকথনের ব্যাপারে জানতে চেয়েছে পুলিশ। তিনি স্বীকার করেছেন, মুনিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় ছিলো। গত বছর হোয়াটসঅ্যাপে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়েটি। তখন শারুন তাকে জানান- মুনিয়া যার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, সেই একই ব্যক্তির সঙ্গে তার সাবেক স্ত্রীর সম্পর্ক ছিলো।


শারুন ও মুনিয়ার কথোপকথনের স্ক্রিনশট দেখে বোঝা যায়নি তাদের কথোপকথন কত তারিখে হয়েছিল। এটুকু বোঝা যাচ্ছে, ঘড়ির কাটা ছিলো বিকেল পাঁচটার কাছাকাছি। শুরুতেই শারুনকে মুনিয়া লিখেছেন, ‘উনি তো আমাকে বিয়ে করবে না। কী করবো আমি?’ শারুন এর উত্তর দেন এভাবে, ‘আগেই বলেছিলাম, ওর কথা শুইনো না। ও আমার বউকেও বলছে বিয়ে করবে, কিন্তু করে নাই। মাঝখানে আমার মেয়েটা মা ছাড়া হয়ে গেছে। যদিও আমার বউ খারাপ চরিত্রের একটা মেয়ে।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে মুনিয়া উল্লেখ করেন, ‘আমার একটা ঝামেলা হয়ে গেছে।’ এজন্য শারুনকে কিছু ছবি ও একটি অডিও রেকর্ডিং দিয়ে রাখবেন বলে জানান তিনি। এরপর মুনিয়া বলেন, ‘যদি আমার কিছু হয় আপনি এটা সবাইকে দেবেন প্লিজ।’

শারুনকে মুনিয়া কয়েকটি ছবি ইনবক্স করে বলেন, ‘আপনি প্লিজ আমি মারা গেলে আমার পরিবারকে দেখবেন।’ একথা শুনে শারুন বলেন, ‘তুমি কিছু করলে একটি গ্রুপ শেষ হয়ে যাবে।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status