ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৮ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
কালীগঞ্জে শান দিয়ে চলে ভূমিহীন আমিরুলের জীবন,সরকারী ঘরের আকুতি
এম সহিদুল ইসলাম, লালমনিরহাট
প্রকাশ: Tuesday, 17 August, 2021, 3:02 PM

কালীগঞ্জে শান দিয়ে চলে ভূমিহীন আমিরুলের জীবন,সরকারী ঘরের আকুতি

কালীগঞ্জে শান দিয়ে চলে ভূমিহীন আমিরুলের জীবন,সরকারী ঘরের আকুতি

পুরোনো কাঁচি,বটি,চাকু কিংবা দাঁ ধার করে ব্যবহার উপযোগী করাই তার কাজ। গ্রামের ভাষায় ধার কাজে ব্যবহার করা এই মেশিনের নাম শান মেশিন। নিজের তৈরি এই শান মেশিনে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় এবং বিভিন্ন হাট বাজারে গত ৩৫ বছর ধরে গিয়ে  শান দেওয়ার কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার একজন ষাটোর্ধ বয়সের ভূমিহীন আমিরুল ইসলাম। এই কাজের আয় দিয়েই অনেক কষ্টে পরিবারের ভরণ পোষন চলে। শেষ বয়সে এসে বসবাস করতে হচ্ছে ছেলের জমিতে। তাও আবার দুর্বিষহ অবস্থা। নেই মাথাগোঁজার ভাল ঠাইটুকুও। তবুও নিরুপায় হয়ে সেখাইনেই বাস করছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি ঘরের আকুতি জানিয়েছেন।

আমিরুল ইসলাম উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভূল্ল্যারহাট ডাঙ্গাপাড়া ৩ নং ওয়ার্ডের মৃত ছমির উদ্দিন পাইকারের ছেলে। তার নিজের বলতে কিছুই নেই, ছেলের জমিতে একপাশে ঘর করে রাতযাপন করেন তিনি।
 
মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সরেজমিনে কালীগঞ্জ বাজারে দেখা যায়, আমিরুল শান দেওয়া মেশিনটির চাকা সাইকেলের প্যাডেল পা দিয়ে সজোরে ঘুরিয়ে শান দিচ্ছে। এতে একটি পাথরের প্লেট সজোরে ঘুরতে হচ্ছে তাকে। ঘূর্ণায়মান ওই পাথরের প্লেটের কার্ণিশে লোহার চাকু,দা ও কাঁচি স্পর্শ করলে ঘর্ষণে ধার উঠে যায়। এসময় ঘর্ষণে ফলে আগুনের ফুলকিও বেড় হয়। এই আগুনের ফুলকি ছিটকে আসে , যা শরীর ও চোখের জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে দুই পায়ে প্যাডেল ঘোরানোর কাজ খুবই পরিশ্রমের। শরীর না কুলালেও জীবিকার তাগিদে তাকে শান দেওয়া মেশিনের প্যাডেল ঘোরাতে হচ্ছে।

এসময় তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে কখোনো স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাল্যকাল হতেই জীবিকার তাগিদে পরের ক্ষেতে কামলা খেটে সংসারে আয় উপার্জণ করতে হয়েছে। তার বয়স যখন ২৫ বছর তখন থেকেই একটি শান দেওয়া মেশিন কাটের ফ্রেমে তৈরী করে শুরু করেন গ্রামে-গঞ্জে হাট বাজারে গিয়ে মরচে ধরা পুরানো কাচি,দা ও চাকুতে ধার ওঠানোর কাজ। পরে পুরাতন বাইসাকেল কিনে সেটাতে শান দেয়ার পাথর সেটিং করে ৩৫ বছর ধরে সেই মেশিনেই চলছে এ কাজ। প্রতিদিন গড়ে ১৫০/২০০ টাকা আয় হয়। এ আয় দিয়েই চলছে পরিবারের ভরন পোষণ। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এখনও তাকে এই বয়সে এসে জীবিকার তাগিদে শান দেওয়ার কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি একজন ভূমিহীন মানুষ। এই বয়সে এসে শান দেয়ার কাজ করতে ইচ্ছে করে না। অন্য কোন কাজও জানা নেই। মরার আগ পর্যন্ত শান দেওয়ার কাজ করে বাঁচতে হবে। অন্য কোন ব্যবসায় যাওয়ার মত কোন টাকা পয়সা নেই।কেউ সহযোগীতা করলে এই কষ্টের কাম না করে বাকী জীবনটা ব্যবসা করে কাটিয়ে দিতাম।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status