মাঠে বাজে ক্রিকেটের চোরা স্রোত ভাসিয়ে নিচ্ছে আর বাইরের সমালোচনার চোরাবালিতে ডুবে আছেন তারা। না পারছেন ম্যাচ জিততে, না পারছেন বিশ্বকাপ উপভোগ করতে। একদিকে বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার চেষ্টা, অন্যদিকে বাইরের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়া। সমালোচনার জবাব দিয়ে সমালোচিত হয়ে আরও চাপে পড়া। এককথায় বিশ্বকাপ খেলতে নামার দিন থেকেই লেজেগোবরে অবস্থা মাহমুদউল্লাহদের। এই হযবরল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটাই পথ খোলা ক্রিকেটারদের সামনে, শারজাহ স্টেডিয়ামে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে হবে। গতকাল ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে নুরুল হাসান সোহানও বললেন একই কথা, বিশ্বকাপ রেসে টিকে থাকতে যে কোনো মূল্যে ম্যাচটি জিততে চান তারা। জয়ের ছন্দে ফিরে নিজেদের বের করে আনতে চান বিষণ্ণতা থেকে।
বায়ো-বাবলের কারণে টিম হোটেলে যেতে পারেন না বিসিবি কর্মকর্তারা। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খানকেও টিম মিটিং করতে হয় ভার্চুয়ালি। যেখানে নানাভাবে কথা বলে খেলোয়াড়দের চাঙ্গা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ তিনিও। বরং মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমের প্রতিবাদের ভাষা স্তম্ভিত করে দিয়েছে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটারদের। আবুধাবিতে ইংল্যান্ডে কাছে বাজে হারের পর বিসিবির একজন পরিচালকের কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ঠাট্টা করে বলেন, 'কিছু বললে আয়নায় মুখ দেখতে হবে। দেশ থেকে তো আয়না নিয়ে আসিনি!'
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকেই পরোক্ষে খোঁচা দেওয়ার পর থেকে সাবেক ক্রিকেটাররাও মুখ লুকিয়ে থাকেন কথা শোনার ভয়ে। তবে নাম গোপন রাখার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, 'খেলোয়াড়রা প্রতিবাদী হন ভালো করতে না পারলে। মুশফিকরা এখন কথা দিয়ে খেলছেন।'
বাছাই পর্বে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ প্রতিবাদী ছিলেন। বিসিবি সভাপতি, মিডিয়া, সমর্থক সবাইকেই এক হাত নেন তিনি। শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর মুশফিকুর রহিম আরও এক ধাপ এগিয়ে সমালোচকদের আয়নায় মুখ দেখতে বলেন। ক্রিকেটারদের এমন আক্রমণাত্মক কথা বিসিবি পরিচালকদেরও বিষণ্ণ করে ফেলেছে। মাঠে গিয়ে খেলা দেখতেও তারা এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য হতাশা নিয়ে বলছিলেন, 'ওরা কারও কথা শুনতে চায় না। আমরা কিছু বললে চুপ করে থাকে। তাই এখন কিছু বলিও না।'
এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরও দলের একজন আছেন অবিচল। সাকিব আল হাসান চেষ্টা করছেন ক্রিকেটারদের খোলস ছেড়ে বের করে আনতে। বাংলাদেশ স্কোয়াডের একজন সদস্য গতকাল ফোনে জানান, 'উইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলার জন্য সবাইকে প্রেরণা দিচ্ছেন সাকিব ভাই। সকালে আমরা সুইমিংপুলে ছিলাম, সেখানে সবার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করেও কথা বলছেন।'
খেলোয়াড়দের এক সুতোয় বাঁধার জন্য অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও প্রথম দিকে চেষ্টা করেছেন। শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর থেকে তিনিও চাপে পড়ে গেছেন। বুধবার আবুধানিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতা ও ৮ উইকেটের পরাজয়ে আরও কুঁকড়ে গেছেন অধিনায়ক। টিম বাসে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে চোখাচোখিতে মাথা নিচু করে ফেলেন। দেখে মনে হচ্ছিল, পরাজয়ের ভারে এতই নুইয়ে পড়েছেন যে, ক্লান্ত শরীরটা টেনে নিয়ে বাসে উঠতে পারবেন না তিনি। সাকিব তাই নিজের কাঁধেই দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন দল চাঙ্গা করার। মনোবল হারানো অধিনায়ককেও সাহস দিয়ে যাচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জেতার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে। বাছাই পর্বে দুই ম্যাচের সেরা সাকিব নিজেও সুপার টুয়েলভের দুই ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স করতে পারেননি। উইন্ডিজের বিপক্ষে জিততে হলে বাঁহাতি এ অলরাউন্ডারের ভালো খেলা অত্যাবশ্যক। আইপিএলের ডেথ বোলার হতে হবে মুস্তাফিজুর রহমানকে।