বীর প্রতীক তারামন বিবির চরিত্রে তানহা মুক্তিযুদ্ধের গল্পে কিংবা মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে কাজ করা একজন অভিনয় শিল্পীর জন্যে স্বপ্নের মতোই। অভিনেত্রী হিসেবে আমার সেই স্বপ্নটি পূরণ হতে চলেছে। তারামন বিবির চরিত্রে অভিনয় করতে পারা আমার জন্য সৌভাগ্যের ও গর্বের। চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজটি করতে চাই আমি। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী তারামন বিবি বীর প্রতীককে নিয়ে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রে তারামন বিবির চরিত্রে অভিনয় করতে যাওয়ার আগে চিত্রনায়িকা তানহা তাসনিয়া এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া জানান এই প্রতিবেদককে।
জানা যায়, বীর প্রতীক তারামন বিবির জীবনের আলোকে মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান নিয়ে নির্মাণ হতে যাচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘তারামন’। এই ছবির নাম ভূমিকায় তারামন চরিত্রে অভিনয় করবেন চিত্রনায়িকা তানহা তাসনিয়া। এটি নির্মাণ করবেন আমিনুর ইসলাম লিটন। ছবিটির গবেষণা, মূলভাবনা ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন ষড়ৈশ্চর্য মুহম্মদ। আর ছবির উপদেষ্টা হিসেবে থাকছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু।
তারামন বিবির মতো এমন একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ আসায় আনন্দিত সুন্দরী গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী তানহা তাসনিয়া। তিনি বলেন, বীর প্রতীক তারামন বিবি সম্পর্কে আমি আগে থেকেই জানি এবং তার সম্পর্কে বই ও পত্রিকায় অনেক পড়েছি। তিনি একজন নারী মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধ করে বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন। তিনি জানান, হঠাৎ করেই এই ছবিটির সঙ্গে তার যুক্ত হওয়া। এর আগে পরিচালকের সঙ্গে একটি ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন তিনি। সেই কাজটি পছন্দ হওয়াতেই নির্মাতা তাকে নিয়ে তারামন ছবির নির্মাণের কথা ভেবেছেন। সবকিছু মিলে যাওয়ায় ছবিটির সঙ্গে তার যুক্ত হওয়া। তানহা তাসনিয়া আরও জানান, ভালো কাজের ক্ষুধা তার মধ্যে প্রবল। অভিনেত্রী হিসেবে ভালো কাজের ক্ষুধা থেকেই তারামন ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
বীর প্রতীক তারামন বিবির চরিত্রে তানহাতানহা তাসনিয়া আরও বলেন, আমার সৌভাগ্য নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর মতো মুক্তিযোদ্ধা, পরিচালককে আমার এই ছবিতে আমি উপদেষ্টা পরিচালক হিসেবে পাচ্ছি। আমার খুবই আনন্দ লাগছে যে, এমন একটি ইতিহাস নির্ভর এবং মুক্তিযোদ্ধার জীবনী ভিত্তিক ছবির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দেশের সম্মান – অহংকার। সেই মুক্তিযুদ্ধের গল্পের ছবিতে কাজ করবো, এটি আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব নিজের চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে।
চরিত্রটি ধারণ করতে অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখলে বোঝা যাবে কত ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে আমাকে। তবে আমি চরিত্রের প্রয়োজনে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আছি। এখন থেকেই চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে আমার। যেহেতু হাতে সময় বেশি নেই তারপরও আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই আমি চরিত্রটি ধারণ করার প্রস্তুতি নিতে পারবো। ব্যক্তিগত জীবন নয়, তারমন বিবির যুদ্ধের সময়টা পর্দায় তুলে ধরবেন পরিচালক। তাই আমাকে তার কিশোরী চরিত্রে এই ছবিতে দেখা যাবে।
পরিচালক আমিনুর ইসলাম লিটন বলেন, এই ছবিতে তারামনের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনাবলী দেখানো হবে। ওই সময়ে তার বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৪ বছর। তাদের চেষ্টা থাকবে কিশোরী চরিত্রেও তানহাকে রাখার। এরপর মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৯৫ সালের আগে কেউ তারামনের খোঁজ রাখেনি। ও ঘটনাও উঠে আসবে ছবিতে।
ছবিটি প্রসঙ্গে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, আমাদের প্রতিটা প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প নতুন করে জানানো উচিত। এখন তো তৃতীয় প্রজন্ম চলছে। আমাদের দেশটা বড় হট্টোগোলের দেশ। এখানে ধর্মান্ধরা নানাভাবে এখনও আছে। এসব থেকে এ প্রজন্মকে রক্ষা করতে বেশি করে যাত্রা, সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র নির্মাণ হওয়া উচিত। সেই জায়গা থেকে এই ছবির পরিচালক প্রথমে আমার সঙ্গে প্রথমে ফোনে, পরে শিল্পকলায় দেখা করে। আমি স্বানন্দে রাজি হয়ে যাই। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভালো কিছু করলে আমি পাশে থাকতে চাই।
বীর প্রতীক তারামন বিবির চরিত্রে তানহাডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ কিংবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কুড়িগ্রামে তারামন বিবির গ্রামের বাড়িতে ছবিটির শুটিং হবে বলে জানান তানহা তাসনিয়া। ছবিতে তিনি ছাড়া আরও অভিনয় করবেন – মোমেনা চৌধুরী, শাহানশাহ উল হক, রুহুল আমিন তুহিন, সোনিয়া আকতার প্রমুখ।
সারভাইভ মিডিয়া ও ডিসেন্ট ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় ছবিটি প্রযোজনা করছে আরশিনগর ও উজান। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিজয় দিবসে ছবিটি মুক্তি দিতে চান এর পরিচালক।
জানা যায়, সম্প্রতি তানহা তাসনিয়া শেষ করেছেন ‘ডোম’ শিরোনামের একটি ওয়েব সিরিজের কাজ। এতে তার সহশিল্পী আবু হুরাইরা তানভীর। এটি নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা রাশেদ রাহা। বর্তমানে এটি মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এবারই প্রথম নয়, এর আগেও ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন তিনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত ‘বিয়ে আমি করবো না’ ছবিটি।