বসুন্ধরার উদ্যোগে বাগেরহাটে ২০০০ পরিবারে শীতের উষ্ণতা দিল শুভসংঘ
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 22 December, 2021, 6:07 PM
বসুন্ধরার উদ্যোগে বাগেরহাটে ২০০০ পরিবারে শীতের উষ্ণতা দিল শুভসংঘ
বাগেরহাট শহরের সরুই মাদ্রাসা রোডে ছোট একটি টিন সেডের ভাড়া ভাড়িতে দুই ছেলে মেয়ে আর প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে বাস করেন দুর্গা রানী মন্ডল। মধ্য বছর বয়সী এই নারী মানুষের বাড়িতে কাজ করে যে অর্থ পায় তাই দিয়ে খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে দিন চলে। শীতবস্তের অভাবে পৌষের এই শীতে অনেকটা যুবুথুবু হয়ে পড়েছে দুর্গা রানীর পরিবার। কম্বল আর লেপের অভাবে এই শীতে ওই পরিবারটির অনেক রাত কাটছে নির্ঘুমে। হাতে কম্বল পেয়ে খুশিতে আত্মহারা দুর্গা রানী।
বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে ও কালের কন্ঠ শুভসংঘের সহযোগিতায় দুর্গা রানীর হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়েছে। শরীরে কম্বল জড়িয়ে আনন্দ অশ্রু ঝরিয়েছেন তিনি। শুধু দুর্গা রানী নয় কম্বল হাতে পেয়ে তাসলিমা বেগম, সায়েরা বেগম, কল্পনা আক্তার, নুপুর, দেলোয়ার হোসেন, হালিম এবং কবির হোসেনসহ অসংখ্য নারী-পুরুষের অনুভুতি ছিল প্রায়াই একই রকম। কম্বল পাওয়ার পর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের জন্য দোয়া-আর্শিবাদ করলেন শতশত শীতার্থ অসহায় মানুষ। কালের কন্ঠ শুভসংঘের পক্ষ থেকে বুধবার বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২০০০ (দুই হাজার) শীতার্থ নারী-পুরুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট শহরের শালতলাস্থ জেলা পরিষদ চত্তরে বুধবার সকালে কম্বল বিতারণের আয়োজন করা হয়। কম্বল বিতারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক, বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরজাহান বেগম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মীরা বেগম।
কম্বল বিতারণ অনুষ্ঠানে অতিথিরা বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান। বসুন্ধরা গ্রুপের মতো সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দাবি রাখেন অতিথিরা।
জেলা পরিষদ চত্তরে কম্বল হাতে পেয়ে দুর্গা রানী জানালেন, প্রতিবন্ধী স্বামী আর দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে তার সংসার। আমি আর আমার মেয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে যে অর্থ পাই তাই দিয়ে খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। কাজ না থাকলে অনাহারে দিন কাটে। শীত এলে কষ্টের শেষ থাকেনা। কম্বলের অভাবে স্বামী আর ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক রাত জেগে কাটাতে হয়। এই কম্বল জড়িয়ে রাতে ভালভাবে ঘুমাতে পারবো। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন