কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আবারো পর্যটক আসতে শুরু করেছে
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 6 January, 2022, 2:19 PM
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আবারো পর্যটক আসতে শুরু করেছে
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটক আসায় হোটেল মোটেল গুলোতে আবার স্বস্তির দেখা মিলছে।সম্প্রতি একটি অনখাংকিত ঘটনার জেরে কক্সবাজার পর্যটন স্পট গুলোতে পযর্টক হ্রাস পেয়েছিল। এই ঘটনার কিছু দিন যেতে না যেতে আবারো পর্যটক আসতে শুরু করেছে কক্সবাজারে।
কক্সবাজারে পর্যটক উপস্থিতি আজকে আশানুরূপ হয়েছে বলে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান।
পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা বলয় তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ। নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা, তথ্য সেবা, পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ নানা সেবামূলক কার্যক্রমের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান।
হোটেল মালিকদের বরাত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, টানা কিছু দিন পর্যটন ব্যবসা খারাপ যাওয়ার পর আজকে থেকে টার্গেট করে এই সাপ্তায় বুকিং হচ্ছে সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে। এতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্বপালনে রয়েছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে পর্যটন স্পটগুলো।
সমুদ্র সৈকতে গোসল করাকালীন বিপদাপন্ন পর্যটকদের রক্ষার্থে সর্তক অবস্থায় রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে পর্যটকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীরা।
তারকা মানের হোটেল সায়মন রিসোর্ট এর মহাব্যবস্থাপক বলেন, এখন পর্যটন মৌসুম। প্রায় প্রতিদিনই কমবেশী পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করেন। সপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে একসাথে অনেক লোক বেড়াতে আসছেন। এবারও সাপ্তাহ খানেক ব্যবসা হ্রাস পাওয়ার পর আবার পর্যটকদের আগাম রুম বুকিং হচ্ছে।
কলাতলী ডলফিন মোড়ে পউষী রেস্টুরেন্ট এর মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, হোটেল-মোটেলে যে পরিমাণ ধারণ ক্ষমতা চেয়েও অর্ধেক হওয়ায় রেস্তোরায় খাবারের জন্য পর্যটকদের ভিড় জমাচ্ছে।
তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, করোনা আমাদের চরম ভাবে ঋণগ্রস্ত করেছে। মহামারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আবারো সুন্দর বাণিজ্যিক সময় প্রত্যাশা আমাদের।আজকে নতুন করে পর্যটক বৃদ্ধি পাচ্ছে হোটেলে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটক নিরাপত্তায় সৈকত ও আশপাশে পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, দ্রুত চিকিৎসাসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়। সৈকতে বীচ বাইক নিয়েও রয়েছে টহল। রয়েছে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মী। কন্ট্রোল রুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারসহ পুরো সৈকত পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছে। কোন হোটেলে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্য কেন্দ্র। পর্যটকদের করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সর্বদা সচেতনতা মূলক মাইকিং ও প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যটক হয়রানি বন্ধে মাঠে থাকছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত। কোথাও পর্যটক হয়রানির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সবসময় সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকদের অনাকাঙ্খিত হয়রানি রোধে, পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে এবং পর্যটক বেশেও পুলিশের নারী সদস্যরা সৈকতে ঘুরছেন।