|
খাদিতে নান্দনিকতার ছোঁয়া, চাহিদার শীর্ষে পাঞ্জাবি
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() খাদিতে নান্দনিকতার ছোঁয়া, চাহিদার শীর্ষে পাঞ্জাবি ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে সমগ্র ভারতবর্ষে অসহযোগ আন্দোলনের সময় কুমিল্লায় খাদি শিল্প প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ওই সময় বিদেশি পণ্য বর্জন করার জন্য ডাক ওঠে। সর্বত্র এক আওয়াজ ‘মোটা কাপড়-মোটা ভাত’। সেই থেকে কুমিল্লা নামের সঙ্গে খাদি কাপড়ের নামটি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। খাদি কাপড়কে বলা হয় কুমিল্লার ঐতিহ্যের স্মারক। তবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ভারত পৃষ্ঠপোষকতা প্রত্যাহার করে নিলে কুমিল্লার খাদি শিল্পে সংকট দেখা দেয়। পরে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হাল ধরেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) প্রতিষ্ঠাতা আখতার হামিদ খান। খাদের (গর্তে) চরকায় বসে এ কাপড় তৈরি করা হয় বলে এর নামকরণ হয় ‘খাদি’। ![]() খাদিতে নান্দনিকতার ছোঁয়া, চাহিদার শীর্ষে পাঞ্জাবি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, খাদির বিভিন্ন প্রকার পোশাক থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে পাঞ্জাবি; দ্বিতীয় স্থানে আছে ফতুয়া। ঈদকে সামনে রেখে কুমিল্লা নগরীর প্রতিটি খাদি দোকানেই দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়, মনোহরপুর ও রাজগঞ্জ এলাকার দোকানগুলোতে খাদির বিভিন্ন পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। নগরীর কান্দিরপাড়ে লাকসাম সড়কের দুপাশে থাকা অন্তত ৩০টি খাদি কাপড়ের দোকানে গিয়ে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। কেউ একা, কেউবা দলবেঁধে, আবার অনেকে সপরিবারে কেনাকাটা করছেন দোকানগুলোতে। ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর খাদি পোশাকগুলোর মধ্যে সাদা ও রঙিন পাঞ্জাবি সর্বনিম্ন ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা, মেয়েদের থ্রি-পিস ৪০০ থেকে ২ হাজার টাকা, শর্ট ফতুয়া ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, শাড়ি ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা, শার্ট ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দামে মিলছে। এ ছাড়া বিছানার চাদর ৩০০ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং নকশিকাঁথা ৩ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, রমজানের শুরু কয়েকদিন মন্দা থাকলেও এখন বেচাকেনা অনেক ভালো চলছে। শাহাদাত হোসেন বলেন, “প্রতি বছরই ঈদে খাদির পাঞ্জাবি পরিধান করি। ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে খাদির ভালো মানের পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। এ ছাড়া খাদির পাঞ্জাবি দেখতে যেমন সুন্দর, পরতেও আরাম। তাই তরুণরা ঈদে খাদির পাঞ্জাবি বেশি কিনছে। আর পরিবারের মেয়েদের জন্য খাদি থ্রি-পিস কিনেছি। দামও মোটামুটি বাজেটের মধ্যে আছে।” জান্নাতুল ফেরদৌস নামে আরেক ক্রেতার ভাষ্য, “আমি নিয়মিত বাসায় খাদির থ্রি-পিস পরি। বাসার অন্যরাও খাদির জামা পছন্দ করে। এ ছাড়া খাদি কাপড়ের দামও সামর্থের মধ্যে। তাই এবারের ঈদের জন্য খাদি জামা কিনতে এসেছি।” বিক্রেতারা বলছেন, দাম অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের কাছে খাদি পোশাকের কদর বেশি। পুরুষরা কিনছেন খাদির পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। আর নারীদের প্রিয় খাদির থ্রি-পিস। সেইসঙ্গে বিক্রি হচ্ছে খাদি কাপড়ের তৈরি বিছানার চাদর ও নকশিকাঁথা। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে এ বছর নানা ধরনের নকশায় তৈরি করা হয়েছে খাদি পোশাক। কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার লাকসাম রোডের খাদি জ্যোৎস্না স্টোরের মালিক রতন পাল ও তপন পাল জানান, এখনও দেশ-বিদেশে খাদি কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা আছে। ২০২০ সালের ঈদুল ফিতরে লকডাউনের কারণে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েন কুমিল্লার ঐহিত্য খাদি শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। তবে গত বছরের রোজার ঈদ থেকে প্রাণ ফিরতে শুরু করে কুমিল্লার ঐতিহ্যের খাদি শিল্পের। রমজানের শুরু কয়েকদিন মন্দা থাকলেও বর্তমানে বেচাকেনা খুবই ভালো। মানে ভালো, দামে কম হওয়ায় মানুষ খাদি পোশাক কিনছেন। ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে আছে পাঞ্জাবি। রতন পাল বলেন, “আমরা বেশিরভাগ খাদি কাপড় বিক্রি করি রমজানের ঈদকে (ঈদুল ফিতর) কেন্দ্র করে। শুধুমাত্র রমজানের ঈদেই কুমিল্লায় প্রায় শত কোটি টাকার খাদি কাপড় বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীদের পুরো বছরের ঘাটতি পুষে যায় রোজার ঈদে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাদি কাপড় কিনতে আসছেন মানুষজন। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পরিমাণে কম কিনছেন। এরপরও আশা করছি, আসন্ন ঈদে ভালোই লাভ হবে খাদি ব্যবসায়ীদের।” কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় খাদি কাপড় বিক্রির অন্তত তিন শতাধিক দোকান আছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র কুমিল্লা নগরীতেই আছে দুই শতাধিক। বর্তমানে খাদির পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, ফতুয়া, চাদর ও থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে পুরো দেশেই। কুমিল্লার ঐতিহ্যের খাদি কাপড় যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও। কুমিল্লা খাদি ঘর দোকানের ব্যবস্থাপক মেহরাজ হোসেন বলেন, “খাদি কাপড়ের চাহিদা সব সময়ই আছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে খাদির পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। তবে খাদির ঐতিহ্যবাহী শাড়িও বিক্রি হচ্ছে ভালো। অতীতে খাদির কাপড়ের দাপট থাকলেও বর্তমানে খাদির পাঞ্জাবি ও ফতুয়া চাহিদার শীর্ষে।” গত বছরের তুলনায় এবার রমজানের শুরুর দিকে বেচা-বিক্রি কম ছিল দাবি করে তিনি বলেন, “এটা কারণ হতে পারে মাসের শেষ দিকে রোজা শুরু হওয়ায়। তবে এখন বিক্রি ভালোই হচ্ছে।” কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার খাদি কুঠির শিল্প ভবনের পরিচালক অরূপ সরকার বলেন, “খাদি কাপড় কুমিল্লার ঐতিহ্যের প্রতীক। এক সময় খাদির সব পণ্যেরই ব্যাপক চাহিদা ছিলো দেশ-বিদেশে। কিন্তু বর্তমানে ভারতীয় কাপড়ের আগ্রাসনে খাদির থ্রি-পিসসহ অন্যান্য কাপড়ের আগের মতো চাহিদা নেই। তবে এখনও খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে। আমরা পাঞ্জাবি আর ফতুয়াই বেশি বিক্রি করছি।” কুমিল্লার সামাজিক সংগঠন তিন নদী পরিষদের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আবুল হাসনাত বাবুল বলেন, “ঈদ, নববর্ষ ও পূজা উপলক্ষে খাদির পাঞ্জাবি, ফতুয়া, থ্রি-পিস ও শাড়ির বেশ চাহিদা সব সময়ই থাকে। এক সময় খাদি কাপড় অনেক ভারি ছিল। তবে এখন ওই কাপড় প্রতিনিয়ত মিহি করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম এখন খাদি নিয়ে ভাবছে। এদের হাত ধরেই খাদি কাপড়, খাদি পাঞ্জাবি ও ফতুয়ার নকশায় বৈচিত্র্য আসছে। আমার বিশ্বাস, তরুণ প্রজন্ম কুমিল্লার খাদিকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।”
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আতঙ্ক, টঙ্গীতে ভিভো ফোনে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার
সাতক্ষীরায় রাফাতের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন
