ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চালুর দাবি
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: Wednesday, 26 June, 2024, 6:35 PM

কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চালুর দাবি

কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চালুর দাবি

কুড়িগ্রাম জেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী৷ বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনটি পুনঃরায় চালুর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। সময়ের প্রয়োজনে এ দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম থেকে ভুরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল যোগাগের প্রস্তাব উঠেছে,
কুড়িগ্রামে ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ স্থাপনের ঘোষণা করা হয়েছে, কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। ওদিকে চিলমারীর উপজেলায় নদীবন্দর হচ্ছে। সব মিলে আগামী বছর গুলোতে কুড়িগ্রাম জেলা গুরুত্বপূর্ণ  হয়ে উঠবে। এজন্য যাতায়ত ব্যবস্থা বিবেচনায় এলাকার শ্রমজীবী মানুষজন  ও বিভিন্ন শ্রণীপেশার মানুষ বন্ধ করে দেয়া ১১৬ বছরের কুড়িগ্রাম জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িগ্রাম পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনটি পুনঃরায় চালুর দাবি জানান।

জানা যায়, ১৮৫৩ সালে ভারত উপমহাদেশে রেল যোগাযোগ শুরু হওয়ার পর ১৯০৮ সালে  ব্রিটিশ সরকার কুড়িগ্রামে যোগাযোগের জন্য রেলপথ চালু করে। তৎকালিন কুড়িগ্রাম মহকুমা শহরের সাথে যোগাযোগের জন্য  কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর এলাকায় রেলবাজারে কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করা হয়। ধরলা নদীর  অব্যাহত ভাঙনে স্টেশনটি নদী গর্ভে বিলীন হলে ১৯২৬ সালের দিকে বর্তমান পুরাতন শহরে ১২ একর ৪২ শতক জায়গার উপর স্টেশনটি পুনঃস্থাপন করা হয়।যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের আগে কুড়িগ্রাম অঞ্চলের মানুষ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়তের জন্য এই স্টেশন ব্যবহার করে লালমনিরহাটের মোগলহাট হয়ে ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট দিয়ে ভারতে যেত। দেশভাগের পর সে পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ অংশে ওই রেলপথ কাগজে-কলমে থাকলেও ধীরে ধীরে ভূমিদস্যুদের হাতে চলে যায়। দেশ স্বাধীনের আগে ১৯৬৭ সালে কুড়িগ্রাম থেকে উলিপুর হয়ে চিলমারী বন্দর পর্যন্ত রেল পথ সম্প্রসারণ করা হয়। এজন্য ১৯৬৭ সালে কুড়িগ্রাম সদরের বেলগাছা ইউনিয়নের কালে মৌজায় জনগনের সুবিধার্থে কুড়িগ্রামে আরও একটি রেলওয়ে স্টেশন নিমার্ণ করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে ভূমি দস্যুরা একজোট হয়ে পুরাতন স্টেশনটি বন্ধ করে ঐ স্থানে বাসটার্মিনাল, মার্কেট, ভূরুঙ্গারী-কুড়িগ্রাম বাইপাস সড়ক, শিশু পার্কসহ নানান স্থাপনার দাবীতে সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। সংগ্রাম কমিটির আন্দোলনের মুখে  ৩০জুন ২০০৬ সালে মন্ত্রনালয় পুরাতন রেল স্টেশনটি সরকারিভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। সংগ্রাম কমিটি তৎকালীন যোগাযোগ উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর মদদে রেলস্টেশনটি তুলে দেয়ার রাজনৈতিক চাপে মন্ত্রণালয় স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়। এরপর  তৎকালীন কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র আবু বকর সিদ্দিক পুরাতন স্টেশনটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেন। এখন কি অবস্থায় রয়েছে তিনি তা জানেন না। তিনি বলেন তখনকার সময় জনগণের দাবির কারণে স্টেশনটি তুলে দেয়ার প্রয়োজন ছিল।

এরপর সেনা সমর্থিত সরকার দেশ পরিচালনায় আসলে স্টেশন এলাকা অক্ষত অবস্থায় থাকে। ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে ভূমিদস্যুরা নড়েচড়ে বসে। গত ১৬ বছরে ভূমিদস্যুরা পুরো স্টেশন এলাকা দখল করে নেয়। বর্তমানে স্টেশনটি দেখভাল করার মতো কেউই নেই। স্টেশনের টিন, লোহার খুটি, শাল কাঠের খুটি এমনকি প্লাটফরমের  ইট চুরি হয়ে গেছে। নিজের জায়গা মনে করে ভূমিদস্যুরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাড়িঘর নির্মাণ করছে। অনেকে জায়গা দখল করে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। দখলবাজরা শক্তিশালী হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ জায়গা উদ্ধারে তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম -২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ হামিদুল হক খন্দকার বলেন ইতোমধ্যে রেলপথ সম্প্রসারন করে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত নেয়ার প্রস্তাব করেছেন, এবং  জাতীয় সংসদে বক্তৃতায় বলেছেন বলে জানান।

এব্যাপারে লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,  কুড়িগ্রামে পুরাতন স্টেশনটির তেমন গুরুত্ব নেই। তবে ভবিষ্যতে গুরুত্ব বেড়ে গেলে স্টেশনটি আবার চালু করা হবে।

কুড়িগ্রাম থেকে সোনাহাট স্থল বন্দর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের ব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে জেলার  ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত যোগাযোগে রেলকে সম্পৃক্ত করতে এলাকার জনগণের দাবি রয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। রেলওয়ের দখলকৃত জমি উদ্ধারে রেল কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা চাইলে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status