|
বীরগঞ্জে ক্লু-লেস হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পুলিশ
সুজন শেখ,বীরগঞ্জ
|
![]() বীরগঞ্জে ক্লু-লেস হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পুলিশ গত মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মামলার রহস্য উদঘাটন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ। তিনি বলেন, নিহত ওই বৃদ্ধা মহিলা নাম রেজিয়া খাতুন (৭৫) । তিনি বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের ধনগাঁও জুম্মার হাট এলাকার বাসিন্দা সবদুল মিয়ার স্ত্রী। গত ৬ জুন রাতের যেকোনো সময়ে তাদের ঘরে ঢুকে ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে গরু ও গম বিক্রির এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও জমির দলিল চুরি করে নিয়ে যাওয়া সময় নিহত রেজিয়া খাতুন তাদের কে চিনে ফেলায় ঘরে থাকা ‘দা’ দিয়ে গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় নিহত রেজিয়া খাতুনের ছেলে সুনু মিয়া (৪০) বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় (৭ জুন) মামলা দায়ের করেন। মামলাটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা হওয়াতে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ, পিপিএম (বার) এর দিক নিদের্শনায় ও সার্বিক সহযোগিতায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল ও বীরগঞ্জ সার্কেল (অতিরিক্ত দায়িত্বে) থাকা শেখ মোঃ জিন্নাহ আল মামুন সহ বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান এবং (ওসি) তদন্ত মইনুল ইসলাম ক্লু-লেস এই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিন বিরামহীন অভিযান পরিচালনা করেন । তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে একপর্যায়ে উক্ত নৃশংস হত্যা কান্ডের ক্লু উদঘাটন করা হয়। ![]() বীরগঞ্জে ক্লু-লেস হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পুলিশ হত্যা কান্ডে সরাসরি জড়িত নিহত রেজিয়া বেগমের দেবর আব্দুলের ছেলের ঘরের নাতী জাকির হোসেন (২৬) কে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে নিহতর দেবর রেনু মিয়ার ছেলে হাসিম মিয়া ও মেয়ের ঘরের নাতী মোঃ রমজান আলীকে গ্রেফতার করলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার কথা স্বীকার করেন। গ্রেফতার আসামিরা হলেন- বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউপির ধনগাঁও জুম্মার হাট এলাকার মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (২৬), একই এলাকার বাসিন্দা নিহতের দেবর রেনু মিয়ার ছেলে হাসিম মিয়া (৪৩) ও উপজেলার দেউলি এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে রমজান আলী (২৫)। জাকির ও রমজান আলী সম্পর্কে নিহতের নাতি হন। বীরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মইনুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে আমরা থানা পুলিশ ১৯ দিনের পরিশ্রমে আসামিদের কাছে থেকে অনেক রূপকথার গল্প শুনতে হয়েছে। ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের শনাক্ত করে হয়। গ্রেফতারকৃত জাকিরের দেওয়া জবানবন্দীতে বাকি দুই জন কে গ্রেফতার করি। আসামিরা আদালতের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি), মজিবুর রহমান জানান, মামলাটি ছিলো একেবারেই ক্লু-লেস। এরপরও আমরা হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে নিরবিচ্ছিন্ন তদন্ত শুরু করি। তদন্তে প্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হয়। সর্বশেষ আমরা খুনিকে সনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
