লালপুরের পদ্মার চরে আবারও ধরা পড়ল জীবিত দুইটি বিষধর রাসেল’স ভাইপার (চন্দ্রবোড়া)সাপের বাচ্চা । আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে লালপুরজুড়ে।
রবিবার (২৩ শে জুন) সকালে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসাড়ার চরে কুমড়ার জমিতে ঘাস কাটার সময় তিনটি রাসেল’স ভাইপার সাপের বাচ্চা দেখতে পাই মহড়কয়া কয়লার ডহর গ্রামের লোকমান মিস্ত্রির ছেলে কাজল (২২) নামের যুবক। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে একটি সাপের বাচ্চাকে কুপিয়ে মেরে ফেলেন কৃষকরা। এবং দুইটি জীবিত রাসেল ভাইপার সাপের বাচ্চাকে কৌটাবন্দী করে এলাকাবাসীকে দেখানোর উদ্দেশ্যে বাড়িতে নিয়ে আসে কাজল। গবেষকদের থেকে জানা গেছে রাসেল'স ভাইপার সাপের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই সাপটি ভালো সাঁতার কাটতে পারাই নদী পথে ভারত থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী অঞ্চল এলাকায় প্রবেশ করেছে।এই সাপ এক সাথে ৩- ৮০টি পর্যন্ত বাচ্চা দিয়ে থাকে। এসব বাচ্চা দুই বছরে পরিপক্ব হয়ে উঠে। এদের গর্ভধারণকাল ছয় মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই সাপটি সাধারণত নিশাচর বা রাতে চলাচল করতে পছন্দ করে এবং মানুষের বাড়িঘর এলাকায় সাধারণত এরা থাকে না। সাপ গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা জানান, রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) প্রজাতির সাপ কামড়ালে তারও চিকিৎসা আছে এবং সময়মত চিকিৎসা নিতে পারলে মৃত্যু ঝুঁকি কমে আসে। বেসরকারি সংস্থা ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন জানায় ,রাসেল’স ভাইপার মোটেও দেশের সবচেয়ে বিষধর কিংবা প্রাণঘাতী সাপ নয়।বরং দেশে প্রতি বছর সাপের কামড়ে যত লোক মারা যায় তার অর্ধেকই মারা যায় কেউটে সাপের কামড়ে। তবে সময়মত চিকিৎসা না নিলে রাসেল’স ভাইপারের কামড়েও মৃত্যু হতে পারে। এবিষয়ে রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস. এম. সাজজাদ হোসেন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য রাসেলস ভাইপার আমাদের রক্ষা করতে হবে। এটা বিষাক্ত সাপ। এনিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জমিতে কাজ করার ক্ষেত্রে ফুলহাতা শার্ট, জিন্স প্যান্ট ও বুট জুতা পরিধানের পরামর্শ দেন তিনি। লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএম শাহাবুদ্দিন বলেন, সাপে দংর্শন করলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত এন্টি ভেনাম রয়েছে।রাসেলস ভাইপার নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।