|
উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে
# নিজের দোষ প্রমোটি কর্মকতার উপর চাপিয়ে বরখাস্ত করলেন ধর্মসচিব # নন ক্যাডার কর্মকর্তাকে ফাঁসিয়ে ক্যাডার কর্মকর্তারা নিরাপদ! # যে কোনো চিঠির ড্রাফট সচিব অনুমোদনের পর ইস্যু হয় # সরকার পতনের এক সপ্তাহ পর তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন # একই ভাষায় লেখা চিঠি সাক্ষর করেছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব
দুলাল আহমদ চৌধুরী
|
![]() উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে গত ১২ আগস্ট খান শাহানুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠির বিষয়ে বলা হয়, গত ১৬ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে সংঘটিত সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের লক্ষ্যে তথ্য সরবরাহ প্রসঙ্গে। এতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ে বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশনের অস্থায়ী কার্যালয় সুপ্রিম কোর্ট মেডিয়েশন সেন্টারে গত ১৬ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে সংঘটিত ঘটনায় মৃত্যু, সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতষ্ঠিানসমূহের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দফতর/সংস্থা/ প্রতিষ্ঠানে সংগটিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কিত তথ্য নির্ধারিত ছকে আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে তদন্ত কমিশনের কাছে প্রেরণের অনুরোধ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই কমিশনের কার্যক্রম ও চিঠি ইস্যুতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হিতাহিত জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। পরদিন ১৩ আগস্ট ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার সাক্ষরিত আরেক পত্রে আগের চিঠি বাতিল করেন এবং একই আদেশে দায়িত্বে চরম অবহেলার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারি (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০২৮ এর ২ (খ) বিধি অনুযায়ি অসাদাচরণের অপরাধ করায় খান শাহানুর আলমকে ‘সাময়িক বরখাস্থ’ করা হয়। একই চিঠিতে মন্ত্রণালয় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। দায়িত্বজ্ঞানহীন দলকানা সচিব আদেশে বলেছেন, পত্রপত্রিকায় ও সামাজিক মাধ্যমে চিঠিটি প্রকাশ হওয়ায় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। অথচ এমন অসংলগ্ন একটি চিঠি কেন সামাজিক মাধ্যমে দেখতে হবে, তার আগে তিনি ও তার পিএস এবং সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেন দেখেননি, এই প্রশ্নও করেছেন কেউ কেউ। মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রণালয়ে যে কোনো চিঠির ড্রাফট সংশ্লিষ্ট ডেস্কে তৈরীর পর তা পর্যায়ক্রমে উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সর্বশেষ সচিব অনুমোদন করার পর তা ডেস্ক অফিসারের সাক্ষরে প্রকাশ করা হয়। ডেস্ক অফিসার তার নিজের ইচ্ছায় কোনো চিঠি প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। বিতর্কিত এই চিঠিও সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাক্ষরের পর ডেস্ক অফিসার সাক্ষরে প্রেরণ করা হয়েছে। ফলে এর দায়ভার উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা এড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু সিনিয়র ক্যাডার কর্মকর্তারা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে একজন নন ক্যাডার (প্রমোটি) জুনিয়র কর্মকর্তার উপর সকল দায়ভার দিয়ে তাকে বরখাস্ত করেছেন। সুত্রমতে, এই সম্পকিত নথি থেকে উর্ধ্বতন কর্মকতাদের অনুমোদনের কাগজ ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঠিক একই ভাষায় ২৯ জুলাই একটি চিঠি সাক্ষর করেছিলেন স্বয়ং মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন। সেখানে বলা হয়েছিলো ‘কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে সংঘটিত সহিংসতা, নাশকতা,লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আগামী ৩০ জুলাই ২০২৪ মঙ্গলবার সারদেশে শোক পালন করা হবে’। উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে সংঘটিত মৃত্যু, সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য শেষ মুহূর্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলো শেখ হাসিনার সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ০১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আইন মন্ত্রণালয় এই কমিশনের গেজেট প্রকাশ করেছে। গেজেটে বলা হয়, ‘সরকার কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৫৬-এর ৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৬ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সংঘটিত ঘটনায় মৃত্যু, সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা তদন্তের জন্য নিম্নবর্ণিত তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিশন গঠন করল। ওই কমিশনের সভাপতি হিসেবে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান এবং দুজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী।’ কমিশনের কার্যপরিধি সম্পর্কে গেজেটে বলা হয়েছে— ক. গত ১৬ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে নিহত ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণ উদঘাটন ও তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা। খ. গত ১৬ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা। গ. গত ১৬ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর বা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, সরকারি কোম্পানি, সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ ও করপোরেশন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এই কমিশনের কার্যক্রমের মৃত্যু ঘটেছে। যা বোধগম্য হয়নি ধর্মমন্ত্রণালয়ের দলদাস কর্মকর্তাদের। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
