মেঘনা উপকুলীয় রায়পুরে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, ডুবে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-ফসল
মাহমুদ সানি,রায়পুর
প্রকাশ: Thursday, 22 August, 2024, 5:32 PM
মেঘনা উপকুলীয় রায়পুরে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, ডুবে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-ফসল
টানা বর্ষণ ও মেঘনার জোয়ারে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রায়পুর পৌরসভা,উপজেলার মেঘনার তীরবর্তী উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল, দক্ষিন চরআবাবিল, চরমোহনা ইউপির নিম্নাঞ্চলের মানুষ। পানির স্রোতে অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। সেতু ও রাস্তা ভেঙে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। আক্রান্ত লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উঠেছে।
মেঘনার চরাঞ্চলসহ পুরো উপজেলায় নিন্মাঞ্চল মানুষের বসতঘর, ফসল, কৃষকদের পানের বরজ, ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে, রাস্তা ভেঙ্গে গেছে, ও পুকুরের মাছ চলে গেছে।
বুধবার (২১ আগষ্ট) ইউএনও ইমরান খানের সভাপতিত্বে ছাত্র সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যদের নিয়ে জরুরী সভা করা হয়। এসময় সংগঠনের নেতারা রায়পুরের ডাকাতিয়া নদী ও ইউনিয়নে খালের বাঁধগুলো খুলে দেয়ার জন্য ইউএনওর প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
এদিকে, আবারও বাড়ছে নদীর জোয়ারের পানি। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও পুকুর ভরাট করায় এবং গত ৩০ বছরেও ড্রেনেজ ব্যাবস্থা না থাকায় এতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। গত ৮ দিন ধরে সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের চরকাছিয়া, চরজালিয়া, চরইন্দ্ররিয়া, চরপক্ষি, চরবিগমসফিল্ড, মোল্লারহাট, মিয়ারহাট, হাজিয়ার, সাবেরচর ও হায়দরগন্জ সহ নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী কয়েকশ' পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ভেঙে গেছে বহু ঘরবাড়িএ ছাড়া চরবংশী ও চরআবাবিল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের সড়ক ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। টানা বর্ষণ ও বন্যার কারণে বুধবার ভোররাতে এসব সংযোগ সড়কটি ভেঙে যায়।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চরবংশী ইউনিটের নেতা আজগর হোসেন রবিন জানান, যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকরা সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ বিতরণ কাজে সহযোগিতা করছেন। রেড ক্রিসেন্ট সদর দফতরে জরুরি ত্রাণ বরাদ্দের জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত রায়পুরের মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত দুই'শ পরিবারকে শুকনো খাবার বিতরণ করার ব্যাবস্থা হয়েছে।
রায়পুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম জিলানী বলেন, ৫'শ পরিবারকে শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডঃ মনিরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, শুক্রবার মেঘনা নদী সংলগ্ন চারটিসহ দশটি ইউনিয়নের দুস্থ্য পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করার প্রস্তুতি রয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তারা বিত্তবানদের দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরান খান জানান, মেঘনা নদীর তীরবর্তী চারটি ইউনিয়নবাসী ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়। দুইশ পরিবারকে শুকনো খাবার দেয়া হয়। রোববার প্রায় ৫'শ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।