ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
মিরপুরের বিহারি ক্যাম্পের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা খুব প্রয়োজন
বাংলাদেশী বিহারী পূর্নবাসন কমিটির অন্যতম ঊপদেষ্টা ইব্রার খান তাদের এই সমস্যার কথা গুলো তুলে ধরেন দৈনিক নতুন সময়ের প্রতিবেদকের কাছে
খালেদ সুজন ও নিরব হোসেন
প্রকাশ: Thursday, 24 January, 2019, 11:55 AM

মিরপুরের বিহারি ক্যাম্পের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা খুব প্রয়োজন

মিরপুরের বিহারি ক্যাম্পের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা খুব প্রয়োজন

আমাদের এখানে এক হাজার পরিবারের বসবাস স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত আমরা একই ভাবে জীবন যাপন করে আসছি ।  আওয়ামী লীগ সরকার প্রত্যাশা গুলো অনেক।  আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে বিহারীদের একটা ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। 


মিরপুরের কালসী এলাকায় বিহারী ক্যাম্পে  এই জনগোষ্ঠীর লোকেরা মনে করছেন, তাদেরকে  এখন বৈধ নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়। ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকলেও তারা অনেক নাগরিক অধিকার ও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বামী, ছেলে, ছেলে-বউ, মেয়ে, নাতি নিয়ে একই ঘরে থাকি। লজ্জা নিয়েও এভাবেই থাকতে বাধ্য হতে হচ্ছে

সবগুলো ঘরেই একই চিত্র। একটি কক্ষের ভেতর রান্না, খাওয়া, ঘুম । সেখানেই ঠাসাঠাসি করে রাখা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র।

পানি ও বিদ্যুতের অপর্যাপ্ত সরবরাহ থেকে শুরু করে গোসল বা বাথরুম সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তারা নিজেদের জীবন যাপন মানবেতর।

একই গোসলখানায় একাধিক নারী কিংবা একাধিক পুরুষকে স্নান করে।

চার থেকে পাঁচটি গলির লোকের জন্য সাতটি শৌচাগার। মহিলাদের জন্য তিনটি আর পুরুষদের সাতটি। সকালে কিংবা রাতে যখন লোকজনের মাঝে তাড়াহুড়ো থাকে তখন শৌচাগারের সামনে লম্বা সিরিয়াল পড়ে যায়। বলেন তিনি।

এত লোক গাদাগাদি করে থাকতে গিয়ে প্রায়ই নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটিও স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 বিহারী পরিচয়ের কারণে সমাজের মূলস্রোতে তাল মেলানো তাদের জন্য এখনও বিরাট এক লড়াই।

তারপরও যেসব পরিবার একটু টাকাপয়সার মুখ দেখে কিংবা উচ্চ শিক্ষিত হতে পারে তারা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে অন্য কোথাও বসবাস করতে শুরু করেন। তবে বেশিরভাগের পক্ষেই তা সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশে বিহারী নামে পরিচিত এইসব উর্দুভাষী লোকজনের বেশিরভাগই কসাইখানায়, সেলুনে, খাবারের দোকানে, কিংবা দিনজুরের কাজ করেন। কেউ রিকশা বা অটোরিকশা চালান। একটি বড় অংশের রোজগার আসে কাপড় সেলাই বা হাতের কাজ করে ।

সাধারণভাবে আমরা বাংলাদেশী বিহারী বলে পরিচিত হলেও এখানকার তরুণ প্রজন্মের বেশিরভাগের জন্মই একাত্তর সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে। তারা নিজেদেরকে এই দেশের নাগরিক বলেই মনে করেন এবং এখানেই তারা থাকতে চান।

সরকার যেহেতু আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েছে এবং আমরা ভোটার তাই আমাদের এখন আর বিহারি বলা চলবে না। আমরা মনে করি বিহারী – বাঙ্গালি ভাই ভাই
তবে সরকারের শিক্ষার প্রতি অদম্য প্রচেষ্ঠায় এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে শিক্ষার হার অনেকটাই বেড়েছে।

স্কুল ইউনিফর্ম পড়া বেশকিছু শিশুর স্কুলে যায়।  এই শিশুদের বাবা মায়েদের প্রত্যাশা কোন একদিন অন্ধকার এইসব ঘুপচি ঘর থেকে বাইরে নিয়ে আসতে পারবেন সন্তানদের।

আর বিহারি নয় বাংলাদেশের একজন নাগরিক বলেই আমাদের পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হবে ।   সেই সাথে অামাদের অবস্থানে আমাদের পূর্নবাসনই  আমাদের প্রধান দাবী সরকারের প্রতি ।  

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status