|
চট্টগ্রামে ২০ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার, বিক্রি হতো দারাজে!
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() চট্টগ্রামে ২০ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার, বিক্রি হতো দারাজে! র্যাব-৭ এর একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে চান্দগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানবিজ উদ্দিন ও আসিফ উদ্দিন নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ৫৫ বান্ডিল জাল ইউরো, ৪৫ বান্ডিল ডলার, ২১ বান্ডিল দিরহাম, ৪৫ বান্ডিল রিয়াল এবং বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি জাল নোট, যার মধ্যে ১ হাজার, ২০০ ও ৫০ টাকার নোট রয়েছে। এছাড়া জব্দ করা হয় নয়টি মোবাইল, সাতটি ক্রেডিট কার্ড, ল্যাপটপসহ নোট ছাপানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম। র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দকিল্লার অঙ্কুর প্রিন্টার্সসহ বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠানে এসব জাল নোট ছাপাতেন। এরপর তা দারাজসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি করা হতো। গ্রেফতার তানবিজ উদ্দিন বলেন, “প্রত্যেকটা নোট আমি দারাজে বিক্রি করি। ক্রেতারা দারাজ থেকেই এসব জাল নোট অর্ডার করে নেন।” তবে নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে তারা দাবি করেছেন, এসব নোট শুটিং প্রপস হিসেবে বিক্রি করা হতো, অর্থাৎ নাটক বা চলচ্চিত্রে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু র্যাব কর্মকর্তারা বলেন, উদ্ধারকৃত নোটের পরিমাণ ও মান দেখে বোঝা যায়, এগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্যই তৈরি হয়েছিল। র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, “এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি জাল মুদ্রা ছাপিয়ে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তে আরও বড় চক্রের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।” তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জাল মুদ্রা পাচারকারী নেটওয়ার্কেরও যোগাযোগ থাকতে পারে। উদ্ধার হওয়া ইউরো, ডলার, রিয়াল ও দিরহাম থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা বিদেশি মুদ্রার জাল সংস্করণ ছাপিয়ে তা পাচারের চেষ্টা করছিল। ঘটনার পরদিন, বুধবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক এক সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, জাল নোট তৈরি, বহন, সংরক্ষণ বা লেনদেন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। জনগণকে নোট লেনদেনের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, সন্দেহজনক মুদ্রা পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে বা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “দেশের প্রচলিত মুদ্রায় জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে যাচাই করে নোট গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।” আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, উদ্ধার হওয়া জাল নোটের পরিমাণ ও প্রযুক্তিগত মান দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি অত্যন্ত সংগঠিত চক্রের কাজ। তারা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিদেশি মুদ্রার বাজারেও প্রভাব ফেলতে চেয়েছিল। এই ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অনলাইন বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “যেখানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাল টাকা বিক্রি হয়, সেখানে সাধারণ গ্রাহক কীভাবে নিরাপদ থাকবে?” বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল একটি অপরাধ নয়—বরং দেশের আর্থিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত তদন্ত শেষ করে এই চক্রের মূল হোতাদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
পাইকগাছায় কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন
সাজেকও বাঘাইছড়ির দূর্গম পাহাড়ি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট
খাগড়াছড়িতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের ফাইনালে পুলিশ লাইন্স স্কুল চ্যাম্পিয়ন, সাইফাতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
রাজারহাটে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ
