বর্ণের খেলায়, সুরের মূর্ছনায় 'বর্ণকুঞ্জ': বাকৃবিতে জাতীয় ভাষা উৎসবের এক রঙিন আয়োজন
নতুন সময় প্রতিনিধি,
প্রকাশ: Saturday, 6 December, 2025, 1:33 PM
বর্ণের খেলায়, সুরের মূর্ছনায় 'বর্ণকুঞ্জ': বাকৃবিতে জাতীয় ভাষা উৎসবের এক রঙিন আয়োজন
বর্ণিল আলোয়, জমজমাট বর্ণের সাজে এবং নানা সুরের রঙিন মিলনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত হলো দুই দিনব্যাপী জাতীয় ভাষা উৎসবের প্রথম দিনের বিশেষ আয়োজন ‘বর্ণকুঞ্জ’। বাকৃবি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব (বাউএলসি)-এর ঐকান্তিক উদ্যোগে সাজানো এই মনোমুগ্ধকর আয়োজন রঙের খেলায়, আলোর সজ্জায় ও সুরের মূর্ছনায় পুরো ক্যাম্পাসকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) জাতীয় ভাষা উৎসবের প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বে বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বর্ণকুঞ্জ’ উদ্বোধন করেন দেশের জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইন। উদ্বোধনের পর অতিথিরা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং স্টলগুলোর বৈচিত্র্যময় সাজসজ্জা ও প্রদর্শনী উপভোগ করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি এবং মূকাভিনয়ের চমৎকার পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক সাদাত হোসাইন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো আবদুল আলীম,মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা,ব্যাংক এশিয়ার ম্যানেজার গোবিন্দ কুমার বিশ্বাস,মার্স গ্রুপের প্রধান পরিচালক কৃষিবিদ আনিসুর রহমানসহ অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন ক্লাবের সহ-সভাপতি অধ্যাপক শরিফ -আর -রাফি ও অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী।
নেপালি এক শিক্ষার্থী তার অনুভূতি প্রকাশে বলেন,এখানে এরকম অনুষ্ঠান প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছি অনেক ভালো লাগছে আশেপাশের পরিবেশ অনেক সুন্দর খাবারের অনেক স্টল সাথে এত সুন্দর আলোকসজ্জা।
প্রধান অতিথি সাদাত হোসেন বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে উৎকর্ষের ছেলেমেয়েদেরকে বইমুখী করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন, তবে এখানে এসে আমি সন্তুষ্ট যে তাঁর বই এখনও অনেকে আগ্রহ নিয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, আমি একসময় শুধু ঢাকা যাওয়ার স্বপ্ন দেখতাম আজ সেই বাংলা ভাষার সুবাদে আমেরিকা ও ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আমন্ত্রিত হই। প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ মাতৃভাষার চর্চা ও অনুশীলন অব্যাহত রাখা উচিত, কারণ এর মাধ্যমেই অন্য সংস্কৃতির প্রভাব থেকে নিজেদের সংস্কৃতিকে রক্ষা করা সম্ভব।
প্রক্টর অধ্যাপক ড আবদুল আলীম বলেন, একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি এরকম সৃষ্টিশীল কাজে নিজেদের নিয়োজিত করবে।আমি ভেবেছিলাম এটা ইংরেজি বিষয়ের প্রতিযোগীতা কিন্তু প্রতিযোগীতায় জানতে পারি এখানে অন্যান্য ভাষা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে যা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।