|
গাজীপুরে সালিশের নামে মধ্যযুগীয় বর্বরতা: নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ অভিযোগে যুবককে হত্যা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() গাজীপুরে সালিশের নামে মধ্যযুগীয় বর্বরতা: নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ অভিযোগে যুবককে হত্যা নিহত যুবকের নাম মো. নুরুজ্জামান (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার সাইল্লাবাউলা গ্রামের মোহাম্মদ জাহের খানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন এক্সকাভেটরচালক এবং দীর্ঘদিন ধরে রঙিলা বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুজ্জামানের পাশের কক্ষে বসবাসরত এক নারী পোশাককর্মী গোসল করার সময় বাথরুমের দেয়ালের ওপর একটি মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। ওই নারী অভিযোগ করেন, নুরুজ্জামান গোপনে তার গোসলের ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগের পর নুরুজ্জামানকে একটি ঘরের ভেতরে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন জানান, একপর্যায়ে নুরুজ্জামান ভিডিও ধারণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। এরপর বাড়ির কেয়ারটেকারসহ স্থানীয় কয়েকজন মিলে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। সালিশ চলাকালে একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন নুরুজ্জামানকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পরে সবাই ঘর থেকে বের হয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে চলে যায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অন্য ভাড়াটিয়ারা ঘরের তালা খুলে ভেতরে ঢুকে নুরুজ্জামানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকালে নুরুজ্জামানের মাথা ও গলায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। বাথরুমজুড়ে রক্তের দাগও ছিল। ঘটনার শিকার ওই নারী পোশাককর্মী বলেন, “আমি গোসল করতে গিয়ে দেয়ালের ওপর মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে চিৎকার করি। লোকজন এলে সব খুলে বলি। এরপর তারা নুরুজ্জামানকে আটকে রাখে এবং আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে কীভাবে সে মারা গেছে বা কারা মারধর করেছে—আমি কিছুই জানি না।” নিহতের ভাই কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাই ১৩ বছর ধরে এখানে থাকত। অপরাধ করলেও আইন আছে—এভাবে সালিশের নামে পিটিয়ে হত্যা করার অধিকার কারও নেই। তার মাথা ও গলায় মারাত্মক আঘাত ছিল। যারা ঘটনাস্থলে ছিল, তারা পালিয়ে গেছে—এটা পরিকল্পিত হত্যা।” এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সালিশ বৈঠকের নামে কয়েকজন মিলে নুরুজ্জামানকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। হত্যার পর অভিযুক্তরা ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। যে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নারীসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
কলেজছাত্র কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে হাতকাটা হুসাইন’ ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দাবি
বাগমারায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদণ্ড, ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
ফুলবাড়ীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন
ভান্ডারিয়ায় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা
