|
কাপাসিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের চলাচলের রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরির অভিযোগ, মানববন্ধন
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() কাপাসিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের চলাচলের রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরির অভিযোগ, মানববন্ধন বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর (দুলাল মার্কেট) এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা হারিছ উদ্দিনের স্ত্রী মিনারা বেগম। তিনি বলেন, প্রায় চার বছর আগে ফজলুল হকের কাছ থেকে জমি বায়না করেন তিনি। পরে দুলালপুর-চান্দেরপুল সড়কের সংযোগ থেকে মুক্তিযোদ্ধা হারিছ উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে একটি চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত দুই বছর ধরে স্থানীয় আব্দুল খালেক, আমির উদ্দিন, জিসান, মাসুদ রহমান ও ফারুক হোসেনসহ কয়েকজন ওই রাস্তায় খুঁটি পুঁতে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে খুঁটি সরিয়ে দেয়। কিন্তু সম্প্রতি তারা আবার রাস্তা কেটে সেখানে ফসলি জমি তৈরি করেছেন। মিনারা বেগম আরও বলেন, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বাড়িঘরে হামলার হুমকি দেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিসে তোলা হলেও সমাধান হয়নি। পরে তিনি কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতাও কামনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, “আমাকে এ রাস্তা দিয়ে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় রাস্তা নির্মাণে ব্যয় করা তিন লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে।” মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি বলেন, এ রাস্তা দিয়ে প্রায় ৫০টির বেশি পরিবারের মানুষ চলাচল করেন। রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ শিশু-কিশোরদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আব্দুর রশীদ জানান, জমির মালিক ফজলুল হকের অনুমতি নিয়েই জমির এক পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। রাস্তা কেটে ফেলার ফলে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না এবং জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। বারিষাব ইউনিয়নের ইউপি সদস্য তাহের মুন্সি বলেন, “আমি নিজে উপস্থিত থেকে তাদের অর্থায়নে রাস্তাটি নির্মাণ করে দিয়েছিলাম। পরে শুনেছি স্থানীয় কিছু ব্যক্তি রাস্তা কেটে সেখানে ফসলি জমি তৈরি করেছে। এতে ওই গ্রামের প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবারের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।” অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল খালেকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর অভিযোগটিও বারিষাব ইউনিয়নের প্রশাসককে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেওয়া হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
