ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
নেছারাবাদে পিতৃপরিচয়ের দাবিতে ঘুরছে ২৪ বছরের যুবক, পাননি আইনি সহযোগিতা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 11 April, 2026, 7:20 PM

নেছারাবাদে পিতৃপরিচয়ের দাবিতে ঘুরছে ২৪ বছরের যুবক, পাননি আইনি সহযোগিতা

নেছারাবাদে পিতৃপরিচয়ের দাবিতে ঘুরছে ২৪ বছরের যুবক, পাননি আইনি সহযোগিতা

পিরোজপুরের নেছারাবাদে পিতৃপরিচয়ের দাবিতে স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মো. নাহিদ ইসলাম (২৪) নামে এক যুবক। এ বিষয়ে আইনি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, থানায় সহযোগিতা চাইতে গেলে তাকে অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার কামারকাঠি গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটেছে। নাহিদের দাবিকৃত বাবা মো. মিজান বালীর কাছ থেকে এখনো কোনো স্বীকৃতি মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ কামারকাঠি গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে মিজান বালীর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত হাতেম আলীর মেয়ে নাসিমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় এক বছরের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের সময় নাসিমা বেগম পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে ২০০২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নাসিমা বেগম একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। সেই সন্তানই নাহিদ ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, নাসিমার গর্ভে সন্তান থাকার সময়ই মিজান বালী গ্রাম ছেড়ে চলে যান এবং পরে সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন। ফলে পিতৃপরিচয় ছাড়াই বড় হয়ে ওঠেন নাহিদ ইসলাম।

জলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মসনদ সংগ্রহের জন্য পরিষদের এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরছেন নাহিদ। তিনি জানান, পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে নতুন করে জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন। জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হলে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করবেন। নাহিদ বলেন, ‘আমি মায়ের কাছ থেকে এবং স্থানীয় মুরব্বিদের কাছে শুনেছি, আমার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের সময় আমি মায়ের গর্ভে ছিলাম। কিন্তু বাবা আমাকে স্বীকার করেন না। সমাজে মুখ দেখাতে পারি না। জন্মনিবন্ধন করতে গেলেও বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দরকার হয়। আমি আমার পিতার স্বীকৃতি চাই।

বিষয়টি নিয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট গেলে সেখানে ও কোন আইনি সহায়তা পাননি নাহিদ। নাহিদ বলেন, আমি ওসির নিকট গিয়ে আইনি সহযোগিতা চাইলে ওসি আমাকে বলে, আমি যেহেতু ফেসবুক এবং মিডিয়াতে বিষয়টি প্রচার করেছি ফেসবুক এবং মিডিয়া আমার পিতৃপরিচয় পরিচয় খুঁজে দেবে। ওসি আমাকে বলে যেহেতু ২৪ বছর পিতৃপরিচয় ছিল না এখন তুমি বাপের পরিচয় দিয়ে কি করবা ? অনেক খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছে যা আমি মুখে আনতে পারছি না । আমাকে বলে তোমার ভোটার আইডি কার্ড দরকার ইউনিয়ন পরিষদে আমি বলে দিচ্ছি তোমাকে ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে দিবে।

নাহিদের মা নাসিমা বেগম বলেন, ২০০১ সালে ভালোবেসে আমরা বিয়ে করেছিলাম। এক বছরের মধ্যেই আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তখন আমি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। পরে সন্তান জন্মের পরও আমার সাবেক স্বামী সন্তানের কোনো খোঁজ নেননি। আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। এখন আমার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য পিতৃপরিচয়টা খুব প্রয়োজন।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মিজান বালী বলেন, প্রায় ২৪ বছর আগে নাসিমার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। তিন মাস পরই তালাক হয়ে যায়। পরে শুনেছি সে অন্য জায়গায় বিয়ে করেছে। যে ছেলে পিতৃত্ব দাবি করছে, সে আমার সন্তান নয়। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।

গ্রামের চৌকিদার বিপুল হালদার বলেন, মিজান বালী ও নাসিমা বেগমের বিয়ে আমরা নিজেরাই দিয়েছিলাম। তাদের বিচ্ছেদের সময় নাসিমা গর্ভবতী ছিলেন। ডিভোর্সের কয়েক মাসের মধ্যেই সন্তান জন্ম নেয়। এলাকাবাসীর কাছে বিষয়টি জানা যে ওই সন্তান মিজান বালীর।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লিটন খান বলেন, বিয়ের বিষয়টি সবাই জানে। বিচ্ছেদের পর সন্তান হওয়ায় মিজান বালী এখন অস্বীকার করছেন। কিন্তু নাহিদের ভবিষ্যতের জন্য পিতৃপরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে অনেক সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। জন্মসনদ করতে পরিষদে এসেছে, আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছি।

জলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, ‘নাহিদ নামে এক যুবক জন্মনিবন্ধনের জন্য পরিষদে এসেছে এবং তার সমস্যার কথা জানিয়েছে। বিষয়টি অনেক আগের হওয়ায় উভয় পক্ষের কথা না শুনে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ছেলেটির কথা বিবেচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান নতুন সময়কে জানান, আমি নাহিদের সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করিনি বিষয়টি ভিত্তিহীন। বরং এনআইডির ব্যাপারে আমি তাকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status