|
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন আয়োজনে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস পালিত
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রামের রৌমারীতে যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন আয়োজনে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস পালিত দিবসটি উপলক্ষে আজ ১৮ এপ্রিল শনিবার সকালে জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের পাশে বড়াইবাড়ী যুদ্ধে শহীদ ৩ জন তৎকালীন বিডিআর সদস্যের স্মরনে নির্মিত স্মৃতি ফলকে পুষ্পার্ঘ অর্পন করেন বিজিবিসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। পরে সেখানে স্থানীয়দের আয়োজনে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, জেলা বিএনপি'র আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান, যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, সদস্য সচিব ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ স্থানীয়রা। আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের স্মরণে স্থায়ী স্মৃতি ফলক নির্মাণ ও দিবসটি সরকারিভাবে পালনের দাবি জানান। উল্লেখ্য ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই এপ্রিল প্রায় ৮০০ জন বাংলাদেশী আধাসামরিক সৈন্যের একটি বাহিনী সিলেটের পদুয়া গ্রামের বাংলাদেশ অংশে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি অবৈধ চৌকিতে হামলা করে। বাংলাদেশের দাবি, পদুয়াতে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি অবৈধ ক্যাম্প নির্মাণ করে রাখা হয়েছে। সেই চৌকিতে ৭০ জন বিএসএফ সৈন্য আটকা পড়েছিল। পরবর্তীতে তারা সকলে আত্মসমর্পণ করে ভারতে চলে যায়। এই অচলাবস্থার পরে, বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ আধাসামরিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং নিবিড় টহল শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েকদিন পরে, ৩০০ জন বিএসএফ সৈন্যের একটি ছোট দল পদুয়া/পিরদিওয়াহ থেকে ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে কুড়িগ্রামের রৌমারীর সীমান্ত এলাকা বড়াইবাড়ি গ্রামের কাছে বাংলাদেশী ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, পাড়ুয়ায় ঘটে যাওয়া আগের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ভারতের বিএসএফ পাল্টা আক্রমণ হিসেবে অনুপ্রবেশকে ব্যবহার করেছিল। ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনী ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই এপ্রিল বড়াইবাড়ীর বাংলাদেশী ভূখণ্ডে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই ১১ জন বাংলাদেশী সীমান্ত রক্ষীদের দ্বারা অতর্কিত আক্রমণ করা হয় এবং বিডিআর( বর্তমান বিজিবি) ফাঁড়িতে হামলা প্রতিহত করা হয়। এসময় উভয়পক্ষ সংঘর্ষ বাধলে বাংলাদেশী সীমান্ত রক্ষীদের শত শত গ্রামবাসী সাহায্য করে। এই সংঘর্ষে ১৬ জন ভারতীয় সৈন্য ও ৩জন বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষীসহ মোট ২১ জন নিহত হয়। সংঘর্ষে বাংলাদেশের বিডিআর জোয়ানদের মধ্যে ছিলেন ৩৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং ২৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের শহীদ হন। ২০ই এপ্রিল ভারতীয় সৈন্যদের মৃতদেহ ফেরত পাঠানো হয় এবং উভয় পক্ষের অস্ত্র-সম্বরণে সম্মত হওয়ার পর, অবশেষে ২০০১ সালের ২১শে এপ্রিল সংঘর্ষের পরিসমাপ্তি ঘটে। রৌমারীর বড়াইবাড়ীর সংঘর্ষের এই ঘটনাটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে স্থল সীমানা চুক্তি সহ সংঘর্ষের বছরগুলিতে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, যা ভারত থেকে বাংলাদেশে ১১১ টি ছিটমহল (১৭,১৬০.৬৩ একর) বিনিময়ের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং পারস্পরিকভাবে, পরবর্তীতে ৫১ টি ছিটমহল (৭,১১০.০২ একর) ভারতে হস্তান্তর করেছিল। বাংলাদেশ প্রতি বছর বড়াইবাড়ী দিবস নামে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করে আসছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
