|
বিদ্যুৎ-তেল সংকটে সেচ পাম্প বন্ধ, ব্যাহত কৃষি উৎপাদন
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() বিদ্যুৎ-তেল সংকটে সেচ পাম্প বন্ধ, ব্যাহত কৃষি উৎপাদন কৃষকরা বলছেন, দাম বাড়লেও কাটেনি ডিজেল সংকট।চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ - ডিজেল সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেচ ও জমি চাষে ব্যবহৃত সেচ মোটর স্যালো ইঞ্জিন ও পাওয়ার ট্রিলার চালাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ জ্বালানি না পাওয়ায় কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা দিনের পর দিন তেলের পাম্প ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে দোকানে ঘুরেও ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। অনেকেই রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বিকালে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। আর কিছুদিন পরে ধান কেটে ঘরে তুলতে হবে। এখন ধান ক্ষেতে খুবই পানির প্রয়োজন। ঠিকমত সেচ দিতে না পারলে অনেকাংশে ফলন কমে যাবে। উপজেলার বদরপুর গ্রামের কৃষক আবু সামা জানান, তার একটি ভুট্টা ভাঙার মেশিন এবং একটি স্যালো ইঞ্জিন রয়েছে। তার নিজের ৬/৭ বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল রয়েছে। এছাড়াও তার স্যালো মেশিনের আওতায় অন্যরাও চাষ করে। তার সেচ, চাষ ও ভুট্টা ভাঙ্গা মেশিনে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যুৎ ডিজেল না পাওয়ায় নিজের জমি ও অন্যের জমিতে সেচ দিতে পারছেন না।তিনি আরো জানান, ২০/২৫ দিন পরে ধান কাটা যাবে। এখন জমিতে পানির খুবই প্রয়োজন। পানি দিতে না পারলে ফলন অনেক কমে যাবে। সপ্তাহ খানেক আগে ১০ লিটার ডিজেল পেয়েছি, যা এক বেলায় শেষ হয়ে গেছে। সেই সাথে বিদ্যুৎ এর এমন অবস্থা।। এতে আগাম চাষ করা সম্ভব হবে না। ফলে তার যন্ত্রগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। পুরাতন বাস্তপুর গ্রামের আবু তালেব, আব্দুল মান্নান, আব্দুল আলিম ও হাকিম বলেন, ১০ দিন আগে তারা ৫ লিটার করে তেল পেয়েছেন। সেই তেলে ক্ষেতে একবারের সেচ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তেল দিয়েছে তেল নেওয়ার জন্য তেল কার্ড নিয়ে গভীর রাতে তেল নিয়ে এসে লাইন দিয়ে রোদ গরমে দাঁড়িয়ে থাকার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বলছে- তেল শেষ হয়ে গেছে। তেল না পেয়ে বাড়ি ফিরেছি। তারা অভিযোগ করে বলেন, আমরা গভীর রাতে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেলেও অনেকে গায়ের জোরে লাইনে না দাঁড়িয়েও নিজের চাহিদামত তেল নিয়ে যাচ্ছে। এখানে ধানক্ষেতে কমপক্ষে ৩-৪টি সেচ দিতে হবে। আর ২০-২৫ দিন পর ধান কাটা যাবে, এখন সেচ দিতে না পারলে ফলন অনেক কমে যাবে, খরচও উঠবে না।দামুড়হুদা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘যেসব ধান ইতিমধ্যে পেকে লাল হয়ে গেছে, সেগুলোতে সেচ না দিলে বড় ক্ষতি নাও হতে পারে, তবে ধান পড়ে যেতে পারে। আর যেসব জমির ধান এখনো পূর্ণতা পায়নি, সেসব ক্ষেত্রে অন্তত ২ থেকে ৩ বার সেচ দেওয়া জরুরি, না হলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’এদিকে দীর্ঘস্থায়ী ডিজেল সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে চলতি মৌসুমে ধান ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
