|
অতিরিক্ত শিক্ষার্থীদের চাপে ওবিই বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যালেঞ্জ
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() অতিরিক্ত শিক্ষার্থীদের চাপে ওবিই বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যালেঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকা এই নতুন কারিকুলাম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়া অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা ওবিই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ফলে নতুন কারিকুলাম চালু হলেও তা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, ওবিই কারিকুলামের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট আউটকাম বা দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করা। তবে এর জন্য প্রয়োজন তুলনামূলক ছোট ক্লাস, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষাদান পদ্ধতি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী থাকায় সেই কাঠামো বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আরিফুল হক সিদ্দিকী বলেন, চবির প্রচলিত কারিকুলাম ও আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলামের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। আগে বছরভিত্তিক কোর্স পদ্ধতি থাকলেও ওবিই চালুর মাধ্যমে সেমিস্টার সিস্টেমে যেতে হচ্ছে। এতে ছয় মাসের একটি নির্দিষ্ট একাডেমিক পরিকল্পনা থাকবে—কত সপ্তাহ ক্লাস, কত সপ্তাহ পরীক্ষা হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকবে। এ ছাড়াও ওবিই এর জন্য প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থী সংখ্যা থাকতে হয় ৪০ জন। তবে বাস্তবে বিভাগগুলোতে ১১০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান, তদারকি ও ফলোআপে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ সমস্যা সমাধানে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমানো, লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট বাড়ানো অথবা সেকশনভিত্তিক ক্লাস চালুর কথা ভাবা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ওবিই বাস্তবায়নে কতটা প্রস্তুত এমন প্রশ্নের উত্তরে অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল শাহীন খান বলেন, ওবিই কারিকুলাম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকা প্রয়োজন। আদর্শভাবে ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকলে ওবিই সবচেয়ে ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়। তবে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের বিভাগগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি আরও বলেন, অনুষদের বিভাগগুলো প্রাথমিকভাবে ওবিই বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বড় কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রয়োজনীয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলে বিষয়টি আরও সহজ হবে। কম্পিউটার ল্যাবসহ অবকাঠামোগত কিছু সুবিধা ধাপে ধাপে নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ওবিই কারিকুলাম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা সীমিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। আদর্শভাবে প্রতি শ্রেণিতে ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকলে এ পদ্ধতির সুফল পাওয়া সম্ভব। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগেই শিক্ষার্থী সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি, যা ওবিই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি আরও বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়েছে, ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সংখ্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব স্নাতক প্রোগ্রামে ওবিই কারিকুলাম ব্যবস্থা প্রথমবার চালু করার ফলে শুরুতে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।আপাতত বিদ্যমান সুবিধা দিয়েই কার্যক্রম শুরু করতে হবে। পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দিলে তা চিহ্নিত করে সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
