|
শিক্ষা সংস্কার ও বৈশ্বিক দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে কেমব্রিজ
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() শিক্ষা সংস্কার ও বৈশ্বিক দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে কেমব্রিজ উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জনাব ববি হাজ্জাজ, এমপি; কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন বিভাগের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রড স্মিথ; প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ রাজামানি সহ দেশের সরকারি এবং বেসরকারী পর্যায়ের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সহ আরও অনেকে । নতুন এই কাঠামো কেম্ব্রিজকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেবে। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক সহায়তা ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ববি হাজ্জাজ, এমপি বলেন বাংলাদেশের শিক্ষা খাত এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন আমাদের শুধু জ্ঞানভিত্তিক নয়, দক্ষতাভিত্তিক ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বৈশ্বিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হলে আধুনিক পাঠ্যক্রম, দক্ষ শিক্ষক, উন্নত অবকাঠামো এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের সমন্বয় অপরিহার্য। এই যাত্রায় কেমব্রিজের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও সম্পৃক্ততা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারকে আরও গতিশীল করবে এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের সুযোগ ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন বিভাগের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রড স্মিথ বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে উদ্যম, দক্ষতা এবং বৈশ্বিক পরিসরে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। দেশে আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি আমাদেরকে সেই সম্ভাবনাকে আরও কাছ থেকে সমর্থন করার সুযোগ দেবে। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চাই, যা দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য, শিক্ষা সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ রাজামানি বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা এখন শুধু দেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক পরিসরেও নিজেদের প্রস্তুত করছে। শিক্ষা সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সুযোগের বিস্তারের ফলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আমরা মনে করি, এই পরিবর্তনের যাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে পাশে থাকা এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখাই আমাদের দায়িত্ব। কেমব্রিজ বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড সারোওয়াত রেজা আরও বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে যে পরিবর্তন ও অগ্রগতির ধারা তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি হওয়া এই সম্ভাবনা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রতি বাড়তে থাকা গুরুত্ব দেশটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। আমি বিশ্বাস করি, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করা সম্ভব। বাংলাদেশে কেমব্রিজের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫১ সালে। বর্তমানে দেশের ১২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং এর মাধ্যমে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হচ্ছে। বিশ্বের ৭৫টিরও বেশি দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কারে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে কেমব্রিজের। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সেই বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের স্থানীয় বাস্তবতার সমন্বয় শিক্ষা খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের বাংলাদেশে বর্তমানে ৩ কোটির বেশি স্কুলগামী শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষা খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার প্রতি আগ্রহের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বাজার হিসেবে বাংলাদেশকে দেখছে কেমব্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান সংস্কার কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক যোগ্যতার প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহ এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি—এই তিনটি বিষয় বর্তমানে একই ধারায় এগোচ্ছে। ফলে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের জন্য দেশটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে।বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাময় যাত্রায় আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার বার্তাই দিল।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
