ঢাকা: দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুদকের উপ পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে।
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির সব নথিপত্র গোছাচ্ছে দুদক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই নথিগুলো দ্রুত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে গত সোমবার (১৫ জুন) আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, দুবাইতে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সমস্ত নথিপত্র তৈরির প্রস্তুতি চলছে। দুর্নীতির এসব নথিপত্র চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হবে কূটনৈতিক চ্যানেলে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রমাণ শতভাগ সঠিক না হলে তাকে ফেরানো কঠিন হবে। অন্যদিকে, দেশে তার কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করলেও কিছু সম্পত্তি এখনো আয়ের আওতায় আনতে পারেনি সংস্থাটি।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের ১২৬ নম্বর রোডের এই ভবনের দুটি ফ্লোরে, চারটি ফ্ল্যাটের মালিক ছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। গত বছরের ডিসেম্বরে এই ফ্ল্যাটগুলো ক্রোক করে আসবাবপত্রসমূহ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয় দুদক।
প্রতিটি ফ্লোরের সম্ভাব্য ভাড়া ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ধরা হলেও, এখনও তা ভাড়া দিতে পারেনি দুদক। একইভাবে আদাবরে ছয়টি, দুটি বাড্ডায় ফ্ল্যাটও রিসিভার নিয়োগ করতে পারেনি। তবে গোপালগঞ্জের সাভানা রিসোর্টটি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখান থেকে নিয়মিত রাজস্ব জমা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।
দুদকের তথ্যমতে, ৭৪ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৪টি মামলাসহ পাসপোর্ট জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিং মিলিয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা রয়েছে। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমিসহ অঢেল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দুবাইতে থাকা তার ফ্ল্যাটও জব্দ করে সংস্থাটি।
এদিকে আইনজীবীরা বলছেন, পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সঠিক নথিপত্র সরবরাহ ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে দুবাইতে জব্দকৃত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতেও কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা অব্যাহত রাখার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।