ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ ২ আষাঢ় ১৪৩৩
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদ ছাড়লেন শেখ মহিউদ্দিন
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 16 June, 2026, 12:46 PM

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদ ছাড়লেন শেখ মহিউদ্দিন

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদ ছাড়লেন শেখ মহিউদ্দিন

ঢাকার মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মৃত্যুর ঘটনার পর স্বেচ্ছায় আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদ ছাড়লেন ডা. শেখ মহিউদ্দিন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফাউন্ডেশনের এক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়ে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে ফাউন্ডেশনের নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, জামালুন্নেসা ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স করেন এবং পরে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি করেন। ২৫ বছরের বেশি সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর সম্প্রতি তিনি স্বেচ্ছায় অবসরে যান।

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন পরিচালিত নয়টি হাসপাতালের একটি হল মগবাজারের আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কোরবানির ঈদের আগের দিন ২৭ মে সকালে ওই হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেয়।

ওই ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।

এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শাও নোটিস দেওয়া হয়। সেই নোটিসের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১১ জুন সরকার আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে। তিন দিনের মধ্যে রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নিতে বলা হয়।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে ১৩ জুন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাবি করেন, লাইসেন্স বাঁচাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছে।

সোমবার বিকেলে আদ-দ্বীন হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যদি দাবি করে থাকেন যে, আদ-দ্বীন হাসপাতাল তার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, তাহলে সেই অভিযোগের প্রমাণ তাকেই দিতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকা নিয়ে কেন ঘুরব। এমন কিছু করিনি।

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যু জনিত অনাকাংঙ্ক্ষিত ঘটনায় সমস্ত দেশের সাথে আমরাও গভীরভাবে শোকাহত। ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রোটকল পূণর্মুল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে দৃঢ়ভাবে ইচ্ছুক। আমরা ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ পুরোদমে শুরু করেছি। আলো-বাতাস চলাচল তথা অক্সিজেনের উপস্থিতি সুগম করার জন্য তিনজন ইনডিপেনডেন্ট কনসালটেন্ট এর নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ চলমান। কর্পোরেট অফিসের উপরে অবস্থিত বেকারিটি আমরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন ১৯৮০ সাল থেকে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আয়বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমানে আদ্‌-দ্বীন ফাউন্ডেশনের অধীনে নয়টি হাসপাতাল, পাঁচটি মেডিকেল কলেজ, একটি নার্সিং কলেজ, চারটি নার্সিং ইনস্টিটিউট, একটি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, একটি কলেজিয়েট স্কুল এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কেবল মগবাজারের আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই গত ২৯ বছরে ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ২৯১ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার দাবি করা হয় বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়, গত ১১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এ হাসপাতালের সঙ্গে সরাসরি ১,৭৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী যুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী।

আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ২০৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ ৬৪৬ শিক্ষার্থী পড়ছেন। দুই সহস্রাধিক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যতের জন্য এ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status