যে কোনো মুহূর্তে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা আর চরম আতঙ্ক বুকে নিয়ে ঢাকার দোহার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম চলছে এক জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্তপ্রায় ভবনে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের (PWD) অধীনে থাকা এই ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এর ভেতরের ও বাইরের পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষের সমাগম ঘটলেও ভবনটির সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দোহার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘুরে দেখা যায় ভবনটির কঙ্কালসার দশা। ভবনের মূল প্রবেশপথের ওপরের শেডের প্লাস্টার খসে পড়ে ভেতরের মরচে ধরা রডগুলো বিপজ্জনকভাবে বের হয়ে আছে। যে-কোনো সময় এই ভারী প্লাস্টার ভেঙে সেবাগ্রহীতা বা কর্মচারীদের মাথার ওপর পড়তে পারে। ভবনের ভেতরের ও বারান্দার দেওয়ালের চুনকাম বহু আগেই খসে পড়েছে, স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালে বাসা বেঁধেছে অসংখ্য মাকড়সা ও বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ।
ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা ও নিরাপদ পরিবেশ না থাকায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল চালিকাশক্তি দলিল লেখকেরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অফিসের বারান্দায় তীব্র গরম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে গাদাগাদি করে বসে তাদের দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে।
ভবনটির এই জরাজীর্ণ দশা এবং নিরাপত্তার ঝুঁকির ব্যাপারে দোহার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আকলিমা ইয়াসমিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জানান, ভবনটির এই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা আমরা বহু আগেই লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে (গণপূর্ত অধিদপ্তর) জানানো হয়েছে। তবে আজ অবধি এই সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ-সবাই এখানে চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকেন এবং দ্রুত এর একটি স্থায়ী সমাধান আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের মতে, দোহারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস যেখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব আদায় হয়, সেখানকার অফিস ভবনের এমন কঙ্কালসার দশা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যে-কোনো বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই গণপূর্ত অধিদপ্তর (PWD) ও আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত এই ভবনটি সংস্কার করবে অথবা একটি নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ করে এই অচলাবস্থার অবসান ঘটাবে, এমনটাই দাবি দোহার বাসীর।