ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২১ জুন ২০২৬ ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন মালয়েশিয়া?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 21 June, 2026, 4:44 PM

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন মালয়েশিয়া?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন মালয়েশিয়া?

বাংলাদেশে নতুন কোনো প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হয়; প্রথম বিদেশ সফরে কোথায় যাবেন তিনি?

প্রতিবেশী ভারতে? আঞ্চলিক পরাশক্তি চীনে? নাকি নিরপেক্ষ নগরী নিউ ইয়র্কে, যেখানে রয়েছে জাতিসংঘ সদর দপ্তর।

কখনও কখনও সরকারপ্রধানরা সৌদি আরবকেও প্রথম সফরের জন্য বেছে নিয়েছেন।


রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি ওমরাহ পালনের সুযোগ থাকায় দেশটি বরাবরই একটি বিশেষ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।

যেমন প্রতি নির্বাচনেই দেখা যায় দলীয় প্রধানরা তাদের ভোটের প্রচার শুরু করেন সিলেট থেকে। হজরত শাহজালালের (র.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারের সূচনা করা এক ধরনের প্রতীকী অর্থ বহন করে।

কিন্তু তারেক রহমান কেন মালয়েশিয়া বেছে নিলেন?

সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি সুমন মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর সংগ্রহে তিনি এখন আছেন কুয়ালালামপুরে।

ভারসাম্যের খেলা

একজন সরকারপ্রধানের প্রথম বিদেশ সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মাধ্যমে তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতিরও একটি বার্তা যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নির্বাচিত সরকারপ্রধানের বিদেশ সফর তাদের ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকার প্রকাশ করে, অংশীদার দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে এবং কৌশলগত সমীকরণ জোরদার করে।

বাংলাদেশের কূটনীতিতে ভারত ও চীন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এ দিক দিয়ে প্রাধান্য পেয়েছে ভারত। তবে শেখ হাসিনা তার শেষ সময়ে চীনের সঙ্গেও ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করে গেছেন।

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে নামে। অন্যদিকে চীন তখন অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে মনোযোগী হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে বিএনপির নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা যখন জোরালো হয়ে উঠছিল, ভারত তখন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে শোকবার্তা পাঠিয়ে পাশে থাকার বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

নির্বাচনে জিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন ভারতের স্পিকার ওম বিড়লা।

ফলে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রথম বিদেশ সফরে তিনি কোথায় যাবেন, তা নিয়ে আলোচনায় ছিল। ভারত ও চীনের পাশাপাশি ভুটান ও নেপালের কথাও শোনা যাচ্ছিল।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে ওম বিড়লা সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের' জন্য নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন তারেক রহমানের হাতে।

কয়েকদিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে আনুষ্ঠানিকভাবে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ফলে প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরে চীনে যেতে পারেন-এমন একটি আলোচনা তখন থেকেই ছিল। মে মাসে চীনের প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে তাকে বেইজিং সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

এদিকে তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম টেলিফোনে তাকে অভিনন্দন জানান। ওই ফোনালাপেই তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়া সফরের প্রাথমিক আমন্ত্রণ জানান।

এরপর ৯ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে আনোয়ার ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন।

এরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে চূড়ান্ত করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক রাজনীতির বড় দুই খেলোয়াড় ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতার চাপ এড়িয়ে ভারসাম্য রাখতে হলে তারেক রহমানকে তার প্রথম বিদেশ সফরের জন্য তৃতীয় কোনো দেশই বেছে নিতে হত।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে সমাজের একটি অংশের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব প্রবল। এ অবস্থায় তারেক রহমান প্রথম সফরের জন্য ভারতকে বেছে নিলে সমালোচকরা সেটাকে ‘দিল্লিমুখী পররাষ্ট্রনীতি’ হিসেবে দেখানোর সুযোগ পেত।

আবার তিনি প্রথম সফর চীনকে বেছে নিলে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখাতে পারত কেউ কেউ। ভারতও বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারত।

জটিল এই পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতেই মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান, যাতে কোনো একটি বড় শক্তির প্রতি পক্ষপাতের ধারণা তৈরি না হয় এবং সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটে।

আরো যা যা কারণ

ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা ছাড়াও আরো কয়েকটি বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

এর মধ্যে একটি হল মুসলিম বিশ্বের অগ্রসর দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে মধ্যপন্থি নেতৃত্বের সঙ্গে বন্ধুত্ব দৃঢ় করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা।

এক্ষেত্রে তারেক রহমানের জন্য উদাহরণ হিসেবে থাকছেন তার বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যার সময়ে বাংলাদেশ ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) মধ্যে গভীর ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার বিভিন্ন পদক্ষেপ বেশ প্রশংসিত হয়।

অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়ার দুয়ার বেশ কয়েক বছর ধরেই বন্ধ।

শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর পাশাপাশি অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের বৈধভাবে থাকার সুযোগ তৈরি করতে দরকার দুই দেশের নতুন চুক্তি। নতুন শ্রমিক নিয়োগ, ভিসা সহজীকরণ, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নতুন খাতে কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, শিল্প, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে তারেক রহমানের এই সফরে।

মালয়েশিয়া আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের প্রভাবশালী সদস্য। আর বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আসিয়ানের সদস্য বা ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের।

সরকারের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ আসিয়ানে যুক্ত হতে পারলে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব। আর এক্ষেত্রে মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ইতোমধ্যে বলেছেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় স্থান পাবে। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে। তবে মূল আলোচনার বিষয় হবে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়ানো।

রোববার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। তার এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিতর্ক এড়াতে প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিলেও সেখান থেকে তিনি চীনেই যাবেন। সেখানে তার উপস্থিতিতে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প, সামরিক সহযোগিতা এবং চীনের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় থাকবে।

ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ব্যক্তিগত আবেগ?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও মালয়েশিয়ার বিষয়ে আগ্রহী, বিশেষ করে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির ইতিহাস নিয়ে।

আর তার এই আগ্রহের বিষয়টি বেশ পুরনো। দুই যুগ আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই তা প্রকাশ করেছিলেন।

মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ২০০৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর চ্যানেল আইয়ের হয়ে যখন তারেক রহমানের প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারটি নেন, তখন বিএনপি ক্ষমতায়। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে চ্যানেল আই।

মতিউর রহমান চৌধুরী জানতে চেয়েছিলেন, তারেক রহমান কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমার কাছে যদি বলেন, বাংলাদেশের পরে, মানে অনেক সময় অনেকে বলে না যে একটা দেশ খুব পছন্দ হয়, অনেকের থাকে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন দেশ পছন্দ হয়। আমার কাছে একটা দেশ খুব পছন্দ হয়, সেটা হচ্ছে মালয়েশিয়া।

আমি সুযোগ পেলে মালয়েশিয়াতে যাই, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জায়গা আমি ঘুরে দেখি। কারণ, যেটা আমি শুনেছি, পড়েছি, অনেক জনের কাছে শুনেছি, যে এক সময় আজকে থেকে প্রায় ২০ বছর আগে, ওই দেশটা আমাদের মতনই ছিল। কিন্তু গত ১৫-২০ বছরে ওই দেশটা অনেক ডেভেলপ করে গেছে। তাদের অনেক কিছু কিন্তু আমাদের সাথে মিল আছে, সামাজিকতা বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন, বিভিন্ন জিনিস কমবেশি বাংলাদেশের সাথে মিল আছে।

সেজন্য ওই দেশটা দেখতে ভালো লাগে আমার কাছে যে, কীভাবে তারা চেইঞ্জ করল, কোথায় কোথায় তারা চেইঞ্জ করল, কী চেইঞ্জ করল। তো আমি ওইরকম একটা দেশ দেখতে আগ্রহী বা ইচ্ছা করে, যে হ্যাঁ, আমার দেশে চেইঞ্জ হচ্ছে, মুভ হচ্ছে, দেশ এগোচ্ছে।

আরো একটি কারণে তারেক রহমানের আবেগের সঙ্গে মিশে আছে মালয়েশিয়া। তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় মারা যান। তারেক রহমান তখন লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। শেষবার ছোটভাইকে দেখতে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার বা দেশে আসার সুযোগ তার হয়নি।

কার কোথায় প্রথম সফর

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ভারত সফরে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা এবং তখনকার বাস্তবতা বিবেচনা করলে সেটি অবধারিতই ছিল। সেই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। পরে ১ মার্চ ভারত সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এবং ১৫ মার্চের মধ্যে তা সম্পন্ন হয়।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গতিপথ বদলে যায়।

তারেক রহমানের বাবা, জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯৭৭ সালের ২ থেকে ৫ জানুয়ারি চীন সফর করেন। এটাই তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে স্বীকৃত।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন জিয়া। ওই বছরের ৮ থেকে ১৫ জুন কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি যুক্তরাজ্য সফর করেন। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ফোরামে রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর।

পরের মাসে, অর্থাৎ জুলাই মাসের ২০ তারিখ তিনি যান মিয়ানমারে। আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটাই ছিল তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফর।

সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেওয়ার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম বিদেশ সফর ছিল সৌদি আরবে। তখন তিনি দেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।

১৯৮২ সালের ২ মে সৌদি আরবে ওই সফরের পর অক্টোবরে তিনি ভারত সফর করেন।

আর ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এরশাদের প্রথম বিদেশ সফর ছিল মরক্কোতে। ১৯৮৪ সালের ১৬ জানুয়ারি কাসাব্লাঙ্কায় ওআইসির চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের মার্চে ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া। ২১ মে ভারতের তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী নিহত হলে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে সংক্ষিপ্ত সফরে নয়া দিল্লি যান খালেদা জিয়া।

সরকারপ্রধান হিসেবে সেটাই খালেদা জিয়ার প্রথম বিদেশ সফর। এর পরপরই, ২৫ মে আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান।

সৌদি আরব থেকে তিনি যান কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ওই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর বিদেশি সাহায্য সংগ্রহ করা।

১৯৯৬ সালের জুনে ক্ষমতায় আসেন বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা। পরের মাসে ওমরাহ করতে তিনি সৌদি আরবে যান। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটাই তার প্রথম বিদেশ সফর।

ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি চীনে যান। পরে ডিসেম্বরে তিনি ভারত সফর করেন।

২০০১ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় ফেরার পর খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বিদেশ সফর ছিল সৌদি আরবে। সেখানে ওমরাহ পালনের পাশাপাশি তৎকালীন সৌদি বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফেরেন ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। ওই বছরের এপ্রিলে প্রথম বিদেশ সফরে তিনিও সৌদি আরবে যান এবং ওমরাহ করার পাশাপাশি বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

২০১৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২৫-২৮ মে জাপান সফর করেন শেখ হাসিনা। পরের মেয়াদে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার প্রথম সফর ছিল জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পঞ্চম মেয়াদেও শেখ হাসিনার প্রথম সফর ছিল জার্মানিতে।

ওই বছর অগাস্টে অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূস সেপ্টেম্বরের শেষে নিউ ইয়র্কে যান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে। সেটাই তার প্রথম সরকারি সফর।

ক্ষমতায় থাকার দেড় বছরে তিনি অন্তত ১৪ বার বিদেশ সফরে যান। এর মধ্যে ২০২৫ সালের মার্চে যান চীনে। তবে ভারতে তার যাওয়া হয়নি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status