|
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ভেঙে গেছে স্বপ্নের আশ্রয়, খোলা আকাশই এখন বিধবা ফালানি আক্তারের ছাদ
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ভেঙে গেছে স্বপ্নের আশ্রয়, খোলা আকাশই এখন বিধবা ফালানি আক্তারের ছাদ এরই মধ্যে কালবৈশাখীর ভয়াল থাবায় উড়ে গেছে তার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ কপাটিয়া পাড়া এলাকার ৬৫ বছর বয়সী বিধবা ফালানি আক্তার এখন খোলা আকাশের নিচেই দিন-রাত পার করছেন। দুই মাস আগে এক রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে তার মাটির ঘরের চাল উড়ে যায়। তারপর থেকে অর্থের অভাবে ঘরটি আর মেরামত করতে পারেননি। সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় যে ঘরটি ছিল তার নিরাপদ আশ্রয়, সেটি এখন যেন পরিত্যক্ত এক ধ্বংসস্তূপ। চালবিহীন ঘরের ভেতরে জন্মেছে ঘাস, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক তার। দেয়ালে ঝুলে থাকা কয়েকটি মাটির হাঁড়ি যেন নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে এক অসহায় জীবনের গল্প। স্থানীয়দের মতে, স্বামী হারানোর পর দীর্ঘদিন সংগ্রাম করে সংসার চালিয়েছেন ফালানি আক্তার। কিন্তু এক বছর আগে ছেলে বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেলে তিনি হয়ে পড়েন একেবারেই নিঃসঙ্গ। এরই মধ্যে ঝড়ে ঘর হারানো এবং সম্প্রতি দুই চোখে অস্ত্রোপচার করানো তার দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফালানি আক্তার বলেন, "স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বড় করেছি। এখন সে নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আমার খোঁজও নেয় না। ঝড়ে ঘরের চাল উড়ে গেছে, টিন কেনার সামর্থ্য নেই। মানুষের সাহায্য পেলে আবার একটা ঘর তুলতে পারতাম।" প্রতিবেশী হাবিব জানান, ফালানি খালার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। ঝড়ে ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে তার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ইসলাম ভূঞা জানান, অসহায় ওই নারীর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক জীবনে কত ঝড় সামলানো যায়? স্বামীহারা ফালানি আক্তারের জীবনে প্রকৃতির ঝড়ের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে দারিদ্র্য আর নিঃসঙ্গতা। এখন তার একটাই আকুতি—কেউ একজন এগিয়ে এসে ফিরিয়ে দিক মাথা গোঁজার ছোট্ট একটি নিরাপদ আশ্রয়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
