|
জুরাছড়িতে সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
চাই সুই উ মারমা, রাঙ্গামাটি
|
![]() জুরাছড়িতে সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত রোববার (২১ জুন ২০২৬) জুরাছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২ বীর, রাঙামাটি রিজিওনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুরাছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান, এসপিপি, পিএসসি। এ সময় জোনের উপ-অধিনায়কসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, স্থানীয় হেডম্যান করুণাময় চাকমা, কারবারি তুষার কারবারি, বনযোগীছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে মোট ১ হাজার ২৫০টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি গাছের সঠিক পরিচর্যা ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাসায়নিক ও জৈব সার এবং কীটনাশকও বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত চারার মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছ ছিল, যা স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবে উপকার বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ রক্ষা, পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বৃক্ষ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং ভূমিক্ষয় রোধ, জলাধার সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, জনগণের কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি বিতরণকৃত চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে পরিবেশ সংরক্ষণ, জনকল্যাণ এবং টেকসই উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
