এক ঘোষণায় পথে বসলেন ১,৮০০ শ্রমিক! গাজীপুরের পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
প্রকাশ: Thursday, 25 June, 2026, 10:59 AM
এক ঘোষণায় পথে বসলেন ১,৮০০ শ্রমিক! গাজীপুরের পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ
সকালে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি, কিন্তু হঠাৎ খবর—কারখানা আর খুলবে না! এক ঘোষণায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক। গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকার তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
আর্থিক সংকট ও নানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে গত ১৬ জুন থেকে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। সম্প্রতি স্থায়ীভাবে বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে শ্রমিকদের মধ্যে নেমে আসে হতাশা, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তার ছায়া।
কারখানার শ্রমিক নয়ন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকি। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা চলছে। হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় আমরা এখন দিশেহারা। শুনছি ২৭ জুলাই পাওনা পরিশোধ করবে, কিন্তু সত্যিই পাব কি না জানি না।"
এক ঘোষণায় পথে বসলেন ১,৮০০ শ্রমিক! গাজীপুরের পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ
শুধু নয়ন নন, একই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে শত শত শ্রমিক পরিবারের। কেউ বাসাভাড়া নিয়ে চিন্তিত, কেউ সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে, আবার কেউ ভাবছেন সংসারের নিত্য খরচ কীভাবে চলবে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান জানান, মালিকপক্ষের আর্থিক সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে। শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রোববার গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির অর্থ, মাতৃত্বকালীন সুবিধাসহ সব পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২৭ জুলাই একযোগে সব অর্থ পরিশোধ করার কথা রয়েছে।
তবে শ্রমিক নেতারা এই সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাদের অভিযোগ, ঈদের আগে সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ করে শত শত পরিবারকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হওয়ার ঘটনা শ্রমবাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। ফলে জীবিকা, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে চরম সংকটে পড়ছেন হাজারো মানুষ।
এখন শ্রমিকদের একটাই প্রশ্ন—২৭ জুলাই কি সত্যিই মিলবে তাদের ঘাম ঝরানো শ্রমের ন্যায্য পাওনা, নাকি অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘ হবে?