|
কক্সবাজারে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় বিশেষ প্রচারণা
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() কক্সবাজারে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় বিশেষ প্রচারণা প্রচারণাটি আজ আবুল কাশেম হাই স্কুল থেকে শুরু হয়ে ধারাবাহিকভাবে কুরুলিয়া হাই স্কুল এবং খুরুশকুল হাই স্কুলে পরিচালিত হবে। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টাব্যাপী আয়োজিত এই সেশনগুলোর মাধ্যমে ৩টি স্কুলের মোট ৭৫০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা, অধিকার ও জরুরি হেল্পলাইন সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকরা জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য না জানার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক কিশোর-কিশোরী সঠিক সময়ে সেবা লাভ থেকে বঞ্চিত হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আইনি সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্যের ঘাটতি পূরণ করতেই সেশনগুলোতে শিশু সুরক্ষা (Child Protection), জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধ এবং সেফগার্ডিংসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থার যুব-বান্ধব সেবা (Youth-Friendly Services) পাওয়ার উপায় ও 'সার্ভিস ডিরেক্টরি' শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে ‘স্বপ্ন সারথি: সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন বলেন, সেবা ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে আমরা যে তথ্য ও সুপারিশ পেয়েছি, তার প্রকৃত মূল্য তখনই তৈরি হবে যখন কিশোর-কিশোরীরা সেগুলো বাস্তবে ব্যবহার করতে পারবে। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ হেল্পলাইন ১০৯ এবং শিশু সুরক্ষা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর ব্যবহার ও রেফারেল প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। শুধু আলোচনার মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে আয়োজন করা হয়েছে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক বিশেষ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ এবং উন্মুক্ত প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীরা শুধু কোথায় কী সেবা পাওয়া যায় তা জানলেই হবে না, প্রয়োজনে কীভাবে সেই সেবায় পৌঁছাতে হবে এবং নিজের অধিকার কী, সেটিও জানা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পাশাপাশি তাদের আরও নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আয়োজকদের মতে, এই সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব অধিকার ও সেবা প্রাপ্তির বিষয়ে সচেতন হবে। একই সাথে যেকোনো প্রয়োজনে ভয় না পেয়ে সঠিক জায়গায় সাহায্য চাওয়ার আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে এবং স্থানীয় সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোর একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে। অনুভূতি প্রকাশ করে আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসফিকা ইসলাম বলে, আমরা অনেক সময় কোনো সমস্যায় পড়লে কোথায় সাহায্য চাইতে হবে তা জানি না। আজকের সেশন থেকে আমি হেল্পলাইন নম্বর, বিভিন্ন সেবা কোথায় পাওয়া যায় এবং নিজের ও অন্যের অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি। এখন মনে হচ্ছে, প্রয়োজনে আমি নিজেও সঠিক জায়গায় সাহায্য চাইতে পারব এবং অন্যদেরও পথ দেখাতে পারব। ‘স্বপ্ন সারথি – সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’ মূলত শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তা সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে উপকূলীয় কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কাজ করে থাকে। প্রকল্পটির আওতায় তৈরি করা সার্ভিস ডিরেক্টরি শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেতে সহায়তা করছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
