ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
কথার রেশ না কাটতেই ফেইসবুক বিজ্ঞাপন? বন্ধের উপায় জেনে নিন
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 7 September, 2026, 12:37 PM

কথার রেশ না কাটতেই ফেইসবুক বিজ্ঞাপন? বন্ধের উপায় জেনে নিন

কথার রেশ না কাটতেই ফেইসবুক বিজ্ঞাপন? বন্ধের উপায় জেনে নিন

ব্যক্তিগত আলাপের ঠিক পরেই ফেইসবুকে পছন্দের পণ্যের বিজ্ঞাপন হাজির হওয়ার ঘটনা সবারই জানা।

ফেইসবুক বা মেটা মাইক্রোফোনে আড়ি পাতার কথা বারবার অস্বীকার করলেও আধুনিক অ্যালগরিদম ও ডেটা ট্র্যাকিংয়ের জটিল মারপ্যাচে ঠিকই মানুষের মনের কথা লুফে নেয় সামাজিক মাধ্যম জায়ান্টটি।

তবে ফেইসবুক কি সত্যিই মানুষের ব্যক্তিগত আলাপে গোপনে আড়ি পেতে শুনে বিজ্ঞাপন হাজির করে?

এ প্রশ্ন গেল সপ্তাহে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর ‘সিবিএস দিস মর্নিং’-এর জনপ্রিয় উপস্থাপক গেইল কিং সরাসরি রেখেছিলেন মেটার অধীনে থাকা ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির কাছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সাইট ফিজ ডটঅর্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জানতে চেয়েছেন, কারো সঙ্গে কোনো বিষয়ে ব্যক্তিগত আলাপের পর যে বিষয়ে আমি কখনো সার্চও করিনি ও কারো সঙ্গে ইন্টারনেটে আলোচনাও করিনি ঠিক সেই পণ্যের বিজ্ঞাপন কীভাবে আমার ইনস্টাগ্রাম ফিডে চলে আসে?

এ ধরনের অভিযোগ এবারও নাকচ করেছেন মেটার শীর্ষ কর্তারা। সিবিএস-এর সেই সাক্ষাৎকারে অ্যাডাম মোসেরি বলেছেন, আমরা আপনাদের মেসেজ বা ব্যক্তিগত আলাপ দেখি না, মাইক্রোফোনে আড়ি পাতি না। কারণ এমন কাজ করা নানা দিক থেকেই সমস্যাজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

তবে একইসঙ্গে তিনি এও স্বীকার করেছেন, “আমি জানি আপনারা কখনোই আমার কথা পুরোপুরি বিশ্বাস করবেন না।

তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় কেন এ ধরনের সুনির্দিষ্ট ও প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন বারবার ঠিক সময়ে সামনে চলে আসে ও কেনইবা মানুষ ফেইসবুকের এ আশ্বাসের সত্যতা নিয়ে সন্দিহান?

লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন ‘কনজিউমার ওয়াচডগ’-এর সভাপতি জেমি কোর্ট বলেছেন, মেটা ঠিকই ব্যবহারকারীদের ওপর সুক্ষ্ম নজরদারি চালায়। তবে তা মাইক্রোফোনে আড়ি পাতার মতো স্থূল উপায়ে নয়, বরং ফেইসবুক এমন সব আধুনিক ও জটিল উপায়ে ট্র্যাক করে, যা মানুষের কল্পনার বাইরে।

তাদের এ ট্র্যাকিং সিস্টেম এতটাই নিখুঁত যে, মানুষের অবচেতন মনেই বিশ্বাস জন্ম নেয় যেন তারা আমাদের বাস্তব জীবনের প্রতিটি কথা শুনছে।

জেমি কোর্টের ভাষায়, “মনে হয় যেন তারা সার্বক্ষণিক আপনার পিছু নিয়েছে। তারা বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক ও ডেটা বা তথ্য নিখুঁতভাবে একত্র করে, যার ফলে আপনার কাছে এমনভাবে পণ্য বাজারজাত করা হয় যেন তারা আপনার ব্যক্তিগত আলাপ সরাসরি শুনছে বলেই মনে হয়।”

এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে সরাসরি ফেইসবুকের শরণাপন্ন হলে তারা প্রতিটি ফেইসবুক বিজ্ঞাপনের মেনুতে থাকা ‘হোয়াই ইউ আর সিয়িং দিস অ্যাড’ অপশনটি দেখতে বলে।

তবে বিজ্ঞাপনের ডান কোণের ওই তিন ডটে ক্লিক করার পর যে ব্যাখ্যা মিলেছে তা পুরোপুরি মার্কেটিং ভাষার মারপ্যাচে ঘেরা। তবে বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ পর্যালোচনায় এ ঘটনার আসল রহস্য স্পষ্ট হয়েছে।

ফেইসবুকের শক্তিশালী অ্যালগরিদম নিখুঁতভাবে হিসাব করে বের করে নিয়েছিল যে কোনো ব্যক্তি ও তার আলাপের সঙ্গী বন্ধুটি একই সময়ে একই ভৌগোলিক অবস্থানে উপস্থিত রয়েছেন।

এক্ষেত্রে অ্যালগরিদম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ধরে নিতে পারে ওই ব্যক্তির বন্ধুটির পছন্দ করা ব্র্যান্ডটির প্রতি তারও আগ্রহ থাকতে পারে। আলাপ চলাকালীন বা তার আশপাশে ইনস্টাগ্রামে কোনো ছবি আপলোড করা হয়ে থাকলে সেখান থেকেও ভিজ্যুয়াল ডেটা সংগ্রহ করে আগ্রহের যোগসূত্রটিকে আরও জোরালো হয়।

এ প্রসঙ্গে প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ ফিল লিবারম্যান বলেছেন, ফেইসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ইঞ্জিন ব্যবহারকারীর সরবরাহ করা টেক্সট ও ভিজুয়াল উপাদান থেকে সুনির্দিষ্ট ইনটেন্ট বা মনোভাব খুব সহজে নির্ধারণ করতে পারে।

এ ইনটেন্টের ওপর ভিত্তি করে এরা আপনার কাঙ্ক্ষিত পণ্য বা সেবা খুঁজে বের করে, যা অ্যামাজনের রেকমেন্ড সিস্টেমের মতোই কাজ করে। তবে ফেইসবুকের কাছে আপনার দৈনন্দিন জীবনের বহুমুখী ডেটা ভাণ্ডার বেশি থাকায় তারা আপনার সম্ভাব্য আগ্রহ নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পারে।

নজরদারি বনাম আড়ি পাতা

ফেইসবুক তাদের এ ট্র্যাকিং বা ব্যবহারকারী অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে বেশ খোলামেলা। ব্যবহারকারী যখনই কোনো পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা বন্ধুকে ট্যাগ করেন তখনই ফেইসবুককে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য আরও বেশি রসদ জুগিয়ে দেন, যেখানে প্রতিটি চেক-ইন, হ্যাশট্যাগ ও মন্তব্য তাদের ডেটা ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করে।

এর বাইরেও ফেইসবুকের ডেটা সংগ্রহের পরিধি বড়। মেটা বলেছে, তারা ব্যবহারকারীদের কনট্যাক্ট, যোগাযোগ মাধ্যম, ছবি, ভিডিও, অ্যাকাউন্ট, হ্যাশট্যাগ ও যোগ থাকা বিভিন্ন গ্রুপ থেকে শুরু করে অনেক তথ্যই সংগ্রহ করে।

ব্যবহারকারী কী ধরনের পোস্ট বা ভিডিও দেখছেন তা-ও মেটা নোট করে রাখে। এ ছাড়া ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের নম্বর, বিলিং ও শিপিং সংক্রান্ত তথ্যসহ ব্যবহারকারীর পেমেন্ট ইনফরমেশনও তাদের সংগ্রহে থাকে।

প্রাইভেসি বিষয়ক আইনজীবী পল বিশফফ বলেছেন, সংগৃহীত ডেটা অ্যালগরিদমের মধ্য দিয়ে চালিত করে আপনাকে বিজ্ঞাপনের লক্ষ্যবস্তু বানানোর মতো আরও বহু পথ ফেইসবুকের খোলা রয়েছে। মনে রাখবেন, ফেইসবুক প্লাগ-ইন, লগ-ইন ও উইজেটস ব্যবহার করে এমন অন্যান্য ওয়েবসাইট ও অ্যাপেও আপনার কার্যক্রম ট্র্যাক করতে পারে।

ফেইসবুকের একক সাইন-ইন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীর ডেটায় প্রবেশের আরেকটি দরজা তৈরি করে দেয়। ব্যবহারকারী যদি কোনো ওয়েবসাইটে ইমেইল সাবস্ক্রাইব, কেনাকাটা বা কুপন সংগ্রহ করতে ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন তবে তিনি কোনো ওয়েব পেইজ দেখছেন বা অনলাইন শপিং কার্টে পণ্য যোগ করছেন কি না সেসব তথ্য ফেইসবুক সংগ্রহ করতে পারে।

অনুমতি দেওয়া থাকলে মোবাইল ফোনেও ট্র্যাক করতে পারে ফেইসবুক, যার মানে অ্যাপ বন্ধ থাকা অবস্থাতেও তারা ব্যবহারকারীর অবস্থান বা লোকেশন জানতে পারে।

ব্যবহারকারীদের জন্য অনন্য ও প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত পণ্য তৈরি করতে মেটা ডিভাইসে ‘কুকি’ ডেটা হিসেবে রেখে দেয়। লোকেশন পারমিশনের ক্ষেত্রে, ফেইসবুক সচরাচর অ্যাপ বন্ধ থাকা অবস্থায়ও নিরবচ্ছিন্ন ট্র্যাকিংয়ের জন্য ব্যবহারকারীকে সরাসরি উৎসাহিত করে না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কোনো পোস্ট লাইভ করার ঠিক আগে পপ-আপ উইন্ডো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শহর ট্যাগ করতে ‘লোকেশন সার্ভিস’ চালুর অনুরোধ জানানো কোম্পানি দুটির মূল কোম্পানি মেটা।

ফেইসবুকের ট্র্যাকিং সীমিত করার কিছু উপায় রয়েছে, তবে বাস্তবতা হচ্ছে, কেউ যদি ফেইসবুক অ্যাপ ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যান তবে তাদের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ডেটাই ফেইসবুক সংগ্রহ করে নিতে পারে।

লোকেশন সেটিংসের এফএকিউ’তে ফেইসবুক বলেছে, চেক-ইন, ইভেন্ট ও ইন্টারনেট কানেকশন সংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমেও তারা ব্যবহারকারীর অবস্থান অনুমান করতে পারে।

‘ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া’র সহকারী অধ্যাপক আলেকজান্দ্রা করোলোভা ফেইসবুকের লোকেশন ট্র্যাকিং নিয়ে গবেষণা চালিয়ে বলেছেন, লোকেশন শেয়ারিং অপশন ‘অপ্ট-আউট’ বা বন্ধ করে রাখলেও ফেইসবুক ঠিকই ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি চালিয়ে যায়।

আমরা যখন সব লোকেশন কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টভাবে নিষ্ক্রিয় করে দিই তখনও ফেইসবুক আমাদের পরিদর্শন করা বিভিন্ন স্থান ঠিকই জেনে নেয় এবং তা বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।

প্রাইভেসি সুরক্ষায় করণীয় কী?

ফেইসবুকের অতিরিক্ত ট্র্যাকিং বা আগ্রহ কমাতে ব্যবহারকারীরা কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেন। প্রথমত, লোকেশন ডেটাতে প্রবেশাধিকার বাতিল করা।

অ্যাপলের আইওএস ডিভাইসে ‘সেটিংসে’-এ গিয়ে ‘অ্যাপস’ সেকশনের ফেইসবুক খুললে লোকেশন অ্যাক্সেসের তিনটি বিকল্প মেলে, যেমন ‘অলওয়েজ’, ‘হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ ও ‘নেভার’।

অন্যদিকে, অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ফেইসবুক অ্যাপ খুলে ‘ম্যানেজ সেটিংস’-এ গিয়ে লোকেশন ট্র্যাকিং নেভার করে দেওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং নিয়ন্ত্রণের জন্য ফেইসবুক সেটিংসের ওপরের ডানদিকের বোতামে ক্লিক করে ‘অ্যাডস’ অপশন খুঁজে নিন।

সেখান থেকে ‘ইন্টারেস্টস’, ‘অ্যাডভারটাইজিং অ্যান্ড বিজনেস’, ‘ইয়োর ইনফরমেশন’ ও ‘অ্যাড সেটিংস’ এই চারটি ক্যাটেগরির মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতাদের কোন তথ্য দেওয়া হবে তা নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব।

এক্ষেত্রে ‘অ্যাডস বেসড অন ডেটা ফ্রম পার্টনার্স’, ‘অ্যাডস বেসড অন ইয়োর অ্যাক্টিভিটিস’ ও ‘অ্যাডস দ্যাট ইনক্লুড ইউওর সোশাল অ্যাকশনস’ এসব সাব ক্যাটেগরিগুলো বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে।

তবে ফেইসবুক বলেছে, ব্যবহারকারী সব অপশনে ‘নেভার’ বেছে নিলেও বিজ্ঞাপন ঠিকই দেখতে পাবেন। এ ছাড়া বয়স, লিঙ্গ, অবস্থান বা ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের ভেতরের কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য কারণেও বিজ্ঞাপন দেখানো হতে পারে।

এর চূড়ান্ত সমাধান কী?

সামাজিক মাধ্যম কোম্পানির ট্র্যাকিং ঠেকাতে কিছু স্মার্টফোন অ্যাপ পাওয়া যায়, যা ব্যবহারকারীদের ডেটা চুরি হওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে অ্যাপ ডিলিট করে দেওয়া ছাড়া পুরোপুরি নিরাপদ থাকা কঠিন বলেই মনে করেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status