ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
হরমুজ খুললেও কেন স্বাভাবিক হবে না কাতারের এলএনজি সরবরাহ?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 15 September, 2026, 1:51 PM

হরমুজ খুললেও কেন স্বাভাবিক হবে না কাতারের এলএনজি সরবরাহ?

হরমুজ খুললেও কেন স্বাভাবিক হবে না কাতারের এলএনজি সরবরাহ?

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি সহসা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং আকাশছোঁয়া বিমা খরচের কারণে জ্বালানি সরবরাহ আগামী কয়েক মাস বা বছরজুড়ে সীমিতই থাকবে বলে সোমবার জানিয়েছেন শীর্ষ জ্বালানি নির্বাহীরা।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত গ্যাসটেক কনফারেন্সে শেল-এর সমন্বিত গ্যাসের প্রেসিডেন্ট সেডেরিক ক্রেমার্স বলেছেন, প্রথমত রয়েছে প্রণালি খুলে দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত রয়েছে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা। এই দুটি এখনও সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এমনকি হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক বা খুলে দেওয়া হলেও, যুদ্ধের আগের মতো গ্যাসের প্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি না।

ইরানি হামলায় কাতারের ১৪টি রফতানি ট্রেনের মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির প্রায় ১৭ শতাংশ এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বাজার থেকে প্রতি বছর ১২৮ মিলিয়ন টন গ্যাস কমে গেছে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, এই মেরামতের কাজ শেষ হতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। এর অর্থ হলো, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ উপায়ে খুলে দেওয়া হলেও তা কেবল যুদ্ধপূর্ব কাতারের আংশিক সরবরাহের পথই পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (আইইএফ) তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে কাতার ও আমিরাতের এলএনজি সরবরাহের একমাত্র পথ হরমুজ প্রণালি, যার কোনও বিকল্প পাইপলাইন বা সমুদ্রপথ নেই। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছিল, যার প্রায় পুরোটাই কাতার ও আমিরাতের।

যুদ্ধের ঝুঁকির বিমা ব্যয় বেশি থাকা এবং নিরাপত্তার শঙ্কা বজায় থাকায় এলএনজি ট্যাংকারগুলোও পারস্য উপসাগরে ফিরে আসতে ধীরগতি দেখাচ্ছে। সেডেরিক ক্রেমার্স জানিয়েছেন, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হলেও নিয়মিত সামুদ্রিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগবে।

ক্রেমার্স জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কাতার ও আমিরাতের প্রায় ৩৬ মিলিয়ন টন সরবরাহ বাজার থেকে অনুপস্থিত রয়েছে। এই ঘাটতির প্রায় ২০ মিলিয়ন টন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নতুন পরিমাণ দিয়ে পূরণ করা হয়েছে, আর বাকিটা চাহিদা হ্রাস ও মজুদ থেকে পূরণ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির এই বিঘ্ন ঘটার সময় বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের সরবরাহ বিগত বছরগুলোর তুলনায় কম ছিল। আইইএফ এবং জাপানের জোগমেকের সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে উদ্বৃত্ত তরলীকরণ ক্ষমতা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সমস্ত এলএনজি প্রতিস্থাপনের জন্য অপর্যাপ্ত ছিল, যা প্রায় ১০ মিলিয়ন টন গ্যাসের প্রতিস্থাপন ব্যবধান রেখে গেছে।

এই ব্যাঘাতের ফলে শীতকালের আগে ইউরোপ বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে। মহাদেশ জুড়ে গ্যাসের মজুদ ঐতিহাসিক কম স্তরে রয়েছে, অন্যদিকে এশীয় ক্রেতারা বিকল্প কার্গোর জন্য প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে ভারত তার এলএনজির প্রায় ৭৫ শতাংশ হরমুজ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করেছিল, যেখানে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৮৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ।

সূত্র: দ্য ন্যাশনাল নিউজ

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status