|
কারওয়ান বাজার থেকে কাঁচামালের আড়ত সরবে? বিকল্প ৩ বাজারের কী হাল?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() কারওয়ান বাজার থেকে কাঁচামালের আড়ত সরবে? বিকল্প ৩ বাজারের কী হাল? সে লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি, ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে একাধিকবার। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকেও চেষ্টা কম হয়নি, এবার বিএনপির নতুন সরকার ছয় মাসের মাথায় এসে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট সরানোর নির্দেশনা দিল। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রক্রিয়া আসলেই কী শেষ করতে পারবে নগর কর্তৃপক্ষ? বিকল্প হিসেবে গাবতলীতে যে বাজার তৈরি করা হয়েছে, তা ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রস্তুত? গাবতলী মোড় থেকে বেড়িবাঁধের রাস্তায় ওঠে একটু সামনে গেলে হাতের বামে পড়ে গাবতলীর পাইকারি কাঁচাবাজার। সোমবার বেলা ১২টার দিকে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) গাড়ি, এক্সেভেটর ও ডাম্প ট্রাক রাখা হচ্ছে। বাজারের জন্য নির্মিত ভবনগুলোর বিভিন্ন অংশও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। মেঝেতে পড়ে আছে ভাঙা কাচ। কোনো আড়ত সেখানে যায়নি। জায়গাটি অনেকটা পতিত। বাজারের প্রবেশমুখে বসেছে ডিএনসিসি পরিবহন চালক ও শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের কার্যালয়। সেখানেই কথা হয় ইউনিয়ন নেতা আবদুল কাদিরের সঙ্গে। বাজার এলাকা ও ভবনের অবস্থায় তুলে ধরে তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারের কাঁচামালের ব্যবসা সেখানে সরিয়ে নেওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আপনি নিজেই ঘুরে দেখেন। ভবনগুলো পুরনো হয়েছে। কাচ ভেঙে গেছে, রং উঠে যাচ্ছে। গাড়ি রাখার স্টেশন হয়ে গেছে। এখানে কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজার আনলে উল্টো গাবতলী মোড় থেকে ঢাকা উদ্যান পর্যন্ত আরও জ্যাম হয়ে যাবে। গাবতলী পাইকারি কাঁচারবাজার বাদ দিলে মহাখালী ও যাত্রাবাড়ীতে যে দুটি বাজার তৈরি করা হয়েছে, সেখানেও কী সরানো সম্ভব? মহাখালীর বাজার ভবনটি ডিএনসিসি হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীতে কিছু দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কারওয়ান বাজার থেকে কোনো আড়ত সেখানে যায়নি। রাজধানীর যানজট কমানো এবং পরিবহন ও পাইকারি বাজার পুনর্গঠনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে গেল ২৯ অগাস্ট কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা হয়নি। তাদের প্রশ্ন, শুধু কারওয়ান বাজার থেকে সরিয়ে দিলেই হবে না, বিপুলসংখ্যক আড়তদারের জন্য বাস্তবসম্মত বিকল্পও দিতে হবে। উত্তর কারওয়ান বাজার আদর্শ ফল ব্যবসায়ী আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি আবু সালেক বলেন, যাত্রাবাড়ীতে যাদের বরাদ্দ হয়েছে, তাদের কেউ কেউ সেখানে যেতে পারেন। কিন্তু কারওয়ান বাজারে থাকা হাজার হাজার ব্যবসায়ীর জন্য একটি জায়গা দরকার। তিনি বলেন, সরকার কয় সরাবে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাদের নেই। আড়তদারদের সঙ্গে বসে যদি পরিকল্পনা করত…ঢাকার বাইরে বা আশপাশে বিশাল একটা জায়গা করত তাহলে সবাই যেতে পারত। চীনে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবু সালেক বলেন, সেখানে বড় শেড তৈরি করে সরকার ব্যবসায়ীদের দিয়েছে এবং কিস্তিতে অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ঢাকার বাইরে বা আশেপাশে একই ধরনের বড় বাজার তৈরি করা হলে ব্যবসায়ীরা যেতে রাজি হবেন বলে তিনি মনে করেন। কারওয়ান বাজারের যানজটের জন্য সড়কে মালামাল ওঠানো-নামানো এবং চাঁদাবাজিকেও দায়ী করেন আবু সালেক। তার ভাষ্য, নির্দিষ্ট সড়কে মালামাল ওঠানো-নামানো নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব। “কিছুটা তো যানজট হয়। হয় রাত্রে। কিছু সরকারি সিদ্ধান্ত নিলেই পারে। মূল যে ভিআইপি রোড ওখানে কোনো মাল আনলোড করতে না দিলেই হয়। রাখতে না দিলেই তো চলে। যার যার ঘরের সামনে গাড়ি নিয়ে যাইবো। “কিন্তু কারওয়ান বাজারে এক শ্রেণির লোক আছে যারা চাঁদা নেয় ওরাই যানজটটা তৈরি করে। রাস্তায় গাড়ি খাড়া কইরা দেয়। ভ্যানগাড়ি দিয়ে মাল আনলোড করবে। চাঁদা দিতে হয় ১০/২০ টাকা। এটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ভিআইপি রোডে আর যানজট হইবো না।” কারওয়ান বাজার পাইকারি কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফিরোজ আলম বলেন, গাবতলীতে যেখানে তাদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে ট্রাক, রড আর সিমেন্ট পড়ে আছে। কোনো মানুষ নেই। ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারওয়ান বাজারে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ আড়তদার রয়েছেন এবং বাজারটিকে ঘিরে ১৪টি ব্যবসায়ী গ্রুপ রয়েছে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজার সরাতে বিএনপির চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৬ সালের অক্টোবরে ‘ঢাকা শহরের তিনটি পাইকারি কাঁচাবাজার নির্মাণ’ প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ২০৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। লক্ষ্য ছিল কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসা গাবতলী, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ীতে স্থানান্তর করা। পরে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়। ডিপিপি অনুযায়ী, তিনটি বাজারে ১২০ থেকে ১৩০ বর্গফুট আয়তনের মোট ২ হাজার ৯৩৯টি দোকান নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে ৮৯৫, গাবতলীতে ৫৪৯ এবং মহাখালীতে ৩৬০ জন ব্যবসায়ীকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা ছিল। ২০১০ সালের মধ্যে কারওয়ান বাজার সরানোর প্রথম লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিকল্প বাজারগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করার এবং ব্যবসায়ীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়। কিন্তু তা সফল হয়নি। তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০১৭ সালের জুনে কাজ শেষ হয়, তাতে খরচ বেড়ে ৩৫০ কোটি টাকায় দাঁড়ায় বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। ওই বছর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাজারের বড় অংশ এবং পরে পুরো বাজার সরানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৩ সালে আবার গাবতলী ও যাত্রাবাড়ীর বাজারে ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে তৎকালীন ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম ঈদের পর কারওয়ান বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকা ১৭৬টি স্থায়ী দোকান গাবতলীতে নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয় সরিয়ে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরুর কথাও জানানো হয়। কিন্তু বাজারটি শেষ পর্যন্ত আগের জায়গাতেই থেকে যায়। বিএনপির চার দলীয় জোট সরকারের পর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আওয়ামী লীগের দেড় দশক ও সবশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু কাওয়ান বাজার থেকে কাঁচামালের আড়ত সরেনি। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের যুক্তি ছিল, এখানকার অনেক আড়ত একতলা ভবন ও টিনশেড ভবনে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে নতুন বাজারের বহুতল ভবনে মালামাল ওঠানো-নামানো কঠিন হবে। ক্রেতারাও নতুন জায়গায় যেতে চাইবেন না এমন আশঙ্কা তাদের। এ আশঙ্কা থাকলেও সরকারপ্রধান তাদের সরানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু বিকল্প বাজারগুলোকে প্রস্তত করার আগের কারওয়ান বাজারের আড়ত সরানো সম্ভব হবে? ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, গাবতলীর বাজারে এখন সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন যানবাহন রাখা হয় এবং জায়গাটির বড় অংশ অনেকটা পতিত। কোনো দোকান সেখানে যায়নি। যাত্রাবাড়ীর স্থাপনাগুলোতেও নিয়মিত পরিচর্যা বা ব্যবস্থাপনা হচ্ছে না তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ বসে থাকলেও তা বৈধ বরাদ্দ নয়। মহাখালীর বাজার ভবনটি একসময় কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সেখানকার দোকান বরাদ্দের বিষয়টি আর এগোয়নি। বিএনপির নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গেল ১৭ জুন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন কারওয়ান বাজার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। সেখানে পাইকারি বাজার স্থানান্তরের বিরোধিতা করেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সাইফুর রহমান চৌধুরী বর্তমান জায়গাতেই আধুনিক বহুতল আড়ত ও শপিং মল নির্মাণের দাবি জানান। তার দেড় মাস পর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাইকারি বাজার সরানোর নির্দেশনা আসে। ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাবিবুল আলম বলেন, কারওয়ান বাজার স্থানান্তরের বিষয়ে সম্প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের মাইকিং করানোর কথা বলা হয়েছিল। আমরা কিছুক্ষণ পরপর মাইকিং করিয়েছি এবং ব্যবসায়ীদের কারওয়ান বাজার থেকে সরে যাওয়ার জন্য জনসচেতনতা তৈরির কাজ করছি। প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ধরে মাইকিং করানো হচ্ছে। আরও কিছুদিন এটি চলবে। নতুন যে তিনটি বাজার করা হয়েছে, সেখানে কী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে? জবাবে হাবিবুল আলম বলেন, শুধু যাত্রাবাড়ীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি জায়গাগুলোতে এখনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য কী ব্যবস্থা করা হবে, এ বিষয়ে এখনো পলিসি পর্যায় থেকে আমাদের কোনো নির্দেশনা আসেনি। মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের নির্দেশনা এলে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর পাইকারি বাজার সরানোর নির্দেশনার খবর পরিবেশন ও মাইকিং করার প্রতিবাদ জানিয়ে গেল ৩১ অগাস্ট কারওয়ান বাজার সিটি করপোরেশন মার্কেট ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা বর্তমান ব্যবসায়ীদের জন্য কারওয়ান বাজারেই স্থায়ী দোকান বরাদ্দ এবং যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানান। হঠাৎ বাজার খালি করার ঘোষণা সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও তারা দাবি করেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, ব্যবসার বিদ্যমান পরিবেশ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম অক্ষুণ্ন রাখতে কারওয়ান বাজারের জায়গাটিই ব্যবহার করে সব ধরনের বাজারকে একটি কেন্দ্রীয় বাজারে একীভূত করা হোক। ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, বড় ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সরিয়ে নেওয়া কঠিন। তিনি বলেন, কিছু ব্যবসায়ীকে মহাখালীতে নেওয়ারও সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু পরে সেটি কোভিড ডেডিকেটেড ঘোষণা দেওয়ার কারণে আমরা দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলাম এবং যারা জামানত বা সালামি মূল্য দিয়েছিলেন, তাদের টাকা ফেরত দিয়েছিলাম। এ কারণে মহাখালীর বিষয়টি আর এগোয়নি। যাত্রাবাড়ীতে নেওয়ার জন্য আমরা একাধিকবার প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের আঞ্চলিক অফিসও সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম, যাতে দ্রুত সেটি ভেঙে পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়া যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। স্থাপনাগুলো সবই আছে। কিন্তু গত দুই বছরে এ বিষয়ে কোনো আপডেট নেই। ডিএনসিসির ওই কর্মকর্তা বলেন, যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ীদের নিচতলায় দেওয়া হবে নাকি দোতলায়, এসব নিয়েও নানা বিষয় ছিল। বাস্তবে কোনো ব্যবসায়ীই যাত্রাবাড়ী বা গাবতলী বাজারে গিয়ে নিজের দোকান স্থানান্তর করেননি। তিনি বলেন, বরাদ্দ পর্যন্ত বিষয়টি ছিল বলে মনে হয়। ডিএনসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এস এম শফিকুর রহমানের মতে, পরিকল্পিত নতুন বাজারে স্থানান্তর করা গেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হতে পারে। তবে কারওয়ান বাজারের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন। ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ভবন ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের এক প্রতিবেদনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৪৩ মার্কেটের মধ্যে ২০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলোর মধ্যে কারওয়ান বাজার ১ নম্বর মার্কেট, ২ নম্বর মার্কেট, অস্থায়ী কিচেন মার্কেট, কাঁচামালের আড়ত মার্কেট ভবন ‘অতি নাজুক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল মার্কেটগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ডিএনসিসি। তবে এসব মার্কেটে এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, স্থানান্তরের পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই রয়েছে। তবে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের ওপর বিষয়টি নির্ভর করায় এখনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারের বর্তমান ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। যথাযথ কমিটি বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বুয়েট, এমআইএসটির মতো প্রতিষ্ঠানের কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা করেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এককভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করিনি।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
