|
চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমারে সার পাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
মো. মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম
|
![]() চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমারে সার পাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কোতোয়ালী থানাধীন চাক্তাই খালের পশ্চিম পাশে বালুর মাঠ সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব সার ও কার্গো বোট জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সদরঘাট নৌ পুলিশ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সাবেরঘোনা এলাকার আনজু মিয়ার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে সেখান (৪৫), হজরত আলীর ছেলে আবদুল হক (২৪) এবং জমিলাঘোনা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে নুরুল ইসলাম জাহেদ (১৬)। পুলিশ জানায়, বুধবার কর্ণফুলী নদীতে সন্দেহজনক একটি কার্গো বোটের গতিবিধি নজরে আসে। পরে নৌ পুলিশ সদস্যরা বোটটিতে অভিযান চালান। তল্লাশির একপর্যায়ে সেখানে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার পাওয়া যায়। বস্তাগুলো গুনে মোট ৪০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, এসব সার চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। অভিযানের সময় কার্গো বোটে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই সঙ্গে সার পরিবহনে ব্যবহৃত কার্গো বোটটি জব্দ করে নৌ পুলিশ। সদরঘাট নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশকে জানিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি চক্র চট্টগ্রাম নগর থেকে ইউরিয়া সার সংগ্রহ করে নৌপথে মিয়ানমারে পাচার করে আসছিল। এর আগেও তারা একাধিকবার ইউরিয়া সার মিয়ানমারে পাচার করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে গ্রেপ্তাররা। পুলিশের ধারণা, নৌপথ ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে সার পাচারের একটি চক্র এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। জব্দ করা কার্গো বোটটি কোথা থেকে সার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এবং এর পেছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে ইউরিয়া সার পরিবহনের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সদরঘাট নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রব বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার ও কার্গো বোটের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
