চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কথিত ‘মুরাদ বাহিনী’র প্রধান মো. মুরাদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন সুমন (৩৫) ও রুহুল আমিন। পুলিশ বলছে, তারা সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোড এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের পর জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে বাকলিয়া থানা-পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মুরাদ, সুমন ও রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই ঘটনায় জসিমসহ আরও ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুই পক্ষের বিরোধ মাদক ঘিরে
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাকলিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুরাদ ও জসিমের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সময়ের সঙ্গে সেই বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রোববার রাতের সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীর হাতিয়ার বাসিন্দা মুরাদ দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরে বসবাস করছেন। বাকলিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তিনি একটি বলয় গড়ে তোলেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘মুরাদ বাহিনী’ নামে পরিচিতি পায়।
অন্যদিকে, একসময় মুরাদের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে বিক্রি করতেন জসিম—এমন দাবি রয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের। প্রায় এক বছর আগে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলে জসিম মুরাদের কাছ থেকে মাদক নেওয়া বন্ধ করে অন্য উৎস থেকে মাদক সংগ্রহ শুরু করেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। পরে জসিমও নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তোলেন বলে তাদের দাবি।
এরপর মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জায়গা দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
মুরাদের বিরুদ্ধে ১৬ মামলা
পুলিশ জানিয়েছে, মো. মুরাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মুরাদের ফেসবুক প্রোফাইলে নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।
তবে এমদাদুল হক বাদশা এর আগে দাবি করেছেন, মুরাদ তার অনুসারী নন। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় দল নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
এ ছাড়া দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে মুরাদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।