|
বর্তমানের নেতৃত্বের সংকট মোকাবিলায় গান্ধীর দর্শন এখনও প্রাসঙ্গিক: ব্যারিস্টার মিসবাহ
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() বর্তমানের নেতৃত্বের সংকট মোকাবিলায় গান্ধীর দর্শন এখনও প্রাসঙ্গিক: ব্যারিস্টার মিসবাহ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উপ হাইকমিশনার পবনকুমার বাদে এবং নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাস। অনুষ্ঠানে ‘দ্য অডাসিটি অব ট্রুথ: মহাত্মা গান্ধী’স আইডিয়ালিজম ইন দ্য এজ অব এক্সপেডিয়েন্সি’ শীর্ষক বক্তব্য প্রদান করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ। বক্তব্যে আইন পেশায় দুই দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং গান্ধী দর্শন বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণায় যুক্ত ব্যারিস্টার মিসবাহ বলেন, রাজনৈতিক মেরুকরণ, সশস্ত্র সংঘাত ও জনসাধারণের আস্থার ক্রমাবনতির এই সময়ে মহাত্মা গান্ধীর সত্য ও অহিংসার আদর্শ আগের মতোই প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, গান্ধীর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, ক্ষমতাসীনদের বলপ্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ ও সংঘাতের সমাধান করা উচিত। সত্যাগ্রহের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত নেতৃত্বের শক্তি আসে নৈতিক কর্তৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং মানুষের সেবার মধ্য দিয়ে। অহিংসা অন্যায়ের মোকাবিলা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সাহসী ও বাস্তবসম্মত পথ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ও নেলসন ম্যান্ডেলার ওপর গান্ধীর প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন ব্যারিস্টার মিসবাহ। গান্ধীর ‘তাবিজ’ বা ‘তালিসমান’ -এর নীতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তা সবচেয়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, তা বিবেচনায় নিতে হবে। একটি দেশের অগ্রগতি কেবল অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা উচিত নয়; বরং দেশটি তার নাগরিকদের কতটা মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে, তার ভিত্তিতেই অগ্রগতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ব্যারিস্টার মিসবাহ ১৯৯৫ সালে ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে মহাত্মা গান্ধী বিষয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন এবং এখনও সেই চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। দুই দশকের বেশি সময়ের আইন পেশায় তিনি বাংলাদেশে ফরচুন ১০০, ৩০০ ও ৫০০ তালিকাভুক্ত বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জটিল ও উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ আইনি বিষয় এবং সাংবিধানিক আইনসংক্রান্ত মামলায় কাজ করেছেন তিনি। মেধাস্বত্ব ও প্রযুক্তি আইনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতি ও আইন প্রণয়নেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন। দেশের মেধাস্বত্ব ব্যবস্থার উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) থেকে ২০১৫ সালে ‘টেন আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং পারসনস অব বাংলাদেশ’ পুরস্কার পান তিনি। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
