|
ব্যালেন্স লোনে অতিরিক্ত করের বোঝা? যৌথ তদন্ত চায় গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ব্যালেন্স লোনে অতিরিক্ত করের বোঝা? যৌথ তদন্ত চায় গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স লোন দেওয়ার সুবিধা দিচ্ছে। এ জন্য ১০ টাকা সেবামূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। জরুরি সময়ে এ সুবিধা কাজে এলেও ঋণ গ্রহণ, সেবা ব্যবহার ও পরিশোধের বিভিন্ন পর্যায়ে কীভাবে কর আরোপ করা হচ্ছে, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, অপারেটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোবাইল সেবায় প্রতি ১০০ টাকায় ৫৮ টাকা কর আদায় করা হয়। এ হিসাবে ৫০০ টাকার ওপর প্রথম ধাপে করের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯০ টাকা। এর সঙ্গে ১০ টাকা সেবামূল্যও যুক্ত হতে পারে। আবার ব্যালেন্স লোন পরিশোধের সময় নতুন করে কর কাটা হলে গ্রাহকের প্রকৃত ব্যয় আরও বাড়তে পারে। তবে প্রতিটি পর্যায়ে কর কর্তন হলেই তা আইনগতভাবে দ্বৈত কর আদায়ের প্রমাণ নয় বলে উল্লেখ করেন মহিউদ্দিন আহমেদ। তাঁর মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে করের প্রকৃত হিসাব গ্রাহকদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। স্পষ্ট হিসাব প্রকাশের দাবি সংগঠনটির মতে, ব্যালেন্স লোনের অর্থ, সেবামূল্য, ব্যবহৃত টেলিযোগাযোগ সেবা এবং পরবর্তী রিচার্জ থেকে ঋণ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোন খাতে কী হারে মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক ও অন্যান্য কর প্রযোজ্য হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা উচিত। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, একজন গ্রাহক ৫০০ টাকা ব্যালেন্স লোন নিলে নির্ধারিত শর্তে ওই অর্থ ব্যবহার করে পরবর্তী রিচার্জ থেকে ঋণ পরিশোধের প্রত্যাশা করেন। কিন্তু ঋণ গ্রহণ, সেবামূল্য এবং ঋণ সমন্বয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে কী হারে কর কাটা হচ্ছে, তা স্পষ্ট না হলে সেবাটিকে স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব বলা যায় না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীদের জন্য এ ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করে সংগঠনটি। তাদের মতে, জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজনে নেওয়া সাময়িক সুবিধা যেন গ্রাহকের জন্য অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচ দফা দাবি বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন ব্যালেন্স লোনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রযোজ্য করের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, একই কর একাধিকবার আরোপ করা হচ্ছে কি না, তা বিটিআরসি ও এনবিআরের যৌথ পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট করা; ৫০০ টাকা লোন নিলে সেবামূল্য, কর ও অন্যান্য কর্তনসহ মোট কত টাকা কাটা হবে, তা লোন নেওয়ার আগেই গ্রাহককে জানানো; এবং আইনবহির্ভূত কোনো কর বা সেবামূল্য আদায় করা হলে তা বন্ধ করা। এ ছাড়া প্রমাণিত অতিরিক্ত কর্তনের অর্থ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, ব্যালেন্স লোনের মতো জরুরি সুবিধাকে অতিরিক্ত আয়ের মাধ্যম না বানিয়ে স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব সেবা হিসেবে পরিচালনা করতে হবে। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল ফোন এখন শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, কর্মসংস্থান, আর্থিক লেনদেন ও জরুরি যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মোবাইল সেবায় ন্যায্য মূল্য, স্বচ্ছতা ও গ্রাহকের স্বার্থ নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যালেন্স লোনের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় ও কর কাঠামো প্রকাশ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
