|
গ্রামীণ ট্রাভেলসের স্লিপার বাস নষ্ট, সাভারে রাতভর যাত্রী ভোগান্তি
অব্যবস্থাপনায় নারী-শিশুসহ যাত্রীদের দুর্ভোগ, সমাধান দিতে পারেননি সুপারভাইজার
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() গ্রামীণ ট্রাভেলসের স্লিপার বাস নষ্ট, সাভারে রাতভর যাত্রী ভোগান্তি বুধবার (১৪ অক্টোবর গভীর রাতে মহাসড়কের পাশে বাসটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর বিকল্প বাস পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। এ সময় নারী ও শিশুসহ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। বাস পরিচালনায় সমন্বয়হীনতা এবং যাত্রীদের সময়মতো তথ্য ও বিকল্প পরিবহন দিতে না পারায় গ্রামীণ ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ![]() গ্রামীণ ট্রাভেলসের স্লিপার বাস নষ্ট, সাভারে রাতভর যাত্রী ভোগান্তি যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত রাতে সাড়ে ১১টার দিকে কল্যাণপুর বাস কাউন্টার থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে বাসটি। পথে সাভারের ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে বাসটি বিকল হয়ে পড়ে। তখন অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁদের অনেকেই ঘুম থেকে উঠে বাসের ভেতরে আটকে থাকার পরিস্থিতি বুঝতে পারেন। এরপর যাত্রীরা সুপারভাইজারকে খুঁজে বাস নষ্ট হওয়ার কারণ ও বিকল্প পরিবহনের বিষয়ে জানতে চান। সুপারভাইজার জানান, বাসটি নষ্ট হয়ে গেছে এবং নতুন বাস আসছে। কিন্তু বিকল্প বাস আসার পরও যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি। প্রথমে আসা গ্রামীণ ট্রাভেলসের একটি বাস নন-এসি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। স্লিপার ও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের সেবা পাওয়ার প্রত্যাশায় টিকিট কাটা যাত্রীরা এ পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যাত্রীদের অভিযোগ, রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আরেকটি এসি বাস আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সেটি পৌঁছায়নি। ফলে নারী ও শিশুসহ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। গভীর রাতে নিরাপত্তা, বিশ্রাম ও গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগে পড়েন তাঁরা। এ বিষয়ে বাসটির সুপারভাইজার শামসুজ্জামান বলেন, ‘হেড অফিসের ম্যানেজার ও লাইনম্যানকে ফোন দিচ্ছি, কিন্তু তাঁরা ফোন ধরছেন না। আমার কাছে আর কোনো সমাধান নেই।’ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্বে থাকা একজন সুপারভাইজার যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন এবং বিকল্প পরিবহনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে না পারেন, তাহলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর দায়িত্ব কে নেবে—এমন প্রশ্ন উঠেছে। পরে রাত ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে আরেকটি বাস এসে যাত্রীদের নিয়ে যায়। তবে বাস বিকল হওয়ার পর থেকে বিকল্প বাসে ওঠা পর্যন্ত যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ডালিম নামের এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণের আশায় স্লিপার বাসের টিকিট বেশি টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। কিন্তু বাস নষ্ট হওয়ার পর আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বাড়তি ভাড়া দিয়ে স্লিপার সিট কাটার পরও শেষ পর্যন্ত ইকোনমি বাসে যেতে হচ্ছে। তাহলে স্লিপার বাসের জন্য যে অতিরিক্ত টাকা দিয়েছি, সেই টাকার সমাধান কে দেবে? যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়তি ভাড়ার বিষয়টিও গ্রামীণ ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষের সমাধান করা উচিত।’ অপর এক রাত্রি বলেন, স্লিপার বাসের মতো তুলনামূলক বেশি ভাড়ার সেবা নেওয়া যাত্রীদের কাছে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প পরিবহন এবং দায়িত্বশীল কর্মীদের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া প্রত্যাশিত। বাস বিকল হওয়া যান্ত্রিক কারণে ঘটতে পারে; কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
