ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ● ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এবার বাড়তি সহায়তা চাই: অর্থমন্ত্রী
সায়ীদ আবদুল মালিক, ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) থেকে
প্রকাশ: Wednesday, 14 October, 2026, 5:37 PM
সর্বশেষ আপডেট: Wednesday, 14 October, 2026, 5:59 PM

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এবার বাড়তি সহায়তা চাই: অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এবার বাড়তি সহায়তা চাই: অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি তুলে ধরে দেশটির কাছে বাড়তি আর্থিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়ানো হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে বাংলাদেশের জন্য আরও সহায়তা আসা উচিত।

গতকাল বুধবার ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা এবং দুই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রত্যাশা অনুযায়ী সহায়তা পায়নি। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দেশটির ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেকগুলো এয়ারক্রাফট কিনছি, তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য ও কমোডিটি আমদানি করছি। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, তাতে আমাদের জন্য বাড়তি সহায়তা আসা উচিত। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে। এখন দেখা যাক।’

ঋণের বদলে বিনিয়োগে গুরুত্ব

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক নীতির মূল জোর হচ্ছে বিনিয়োগ। আমরা ঋণ থেকে সরে এসে সরাসরি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগের দিকে বেশি যেতে চাই।’

সরকারের এ নীতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর মতে, ঋণনির্ভরতার পরিবর্তে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে অর্থনীতিতে নতুন কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি হবে।

আমদানি বাড়লেও সহযোগিতার প্রত্যাশা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বৃদ্ধির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান আমির খসরু। উড়োজাহাজ, জ্বালানি তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিস্তৃত হচ্ছে। এ অবস্থায় আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক সহযোগিতা পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক একটি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন প্রত্যাশিত সহায়তা পাওয়ার সময় এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের জোর দিয়ে বলেছি, বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এত বেশি আমদানি করছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, এখন যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সমর্থন না আসে, তাহলে আর কবে আসবে? আমরা যে সহায়তাগুলো আশা করছি, সেগুলো এখন আসা উচিত।’

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের এ অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে। তবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, এর পরিমাণ কত এবং কোন প্রক্রিয়ায় তা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ঋণ ব্যবস্থাপনা ও মার্কিন সহায়তা নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা এবং দুই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান প্রদানকারী একটি সংস্থার সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তবে এসব আলোচনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ কত পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পেতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক বা সময়সীমা জানাননি তিনি।

বাংলাদেশের প্রত্যাশা, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বাড়বে। বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার পাশাপাশি বাড়তি সহায়তার বিষয়ে চলমান আলোচনা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব ফল বয়ে আনে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status