|
বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সঠিক পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী
সায়ীদ আবদুল মালিক, ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) থেকে
|
![]() বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সঠিক পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংককে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইএমএফের সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে আলোচনা বৈঠকে ব্যাংক খাতের সংস্কার, ব্যাংকের পুনর্মূলধনায়ন (রিক্যাপিটালাইজেশন) এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকিং খাতের ‘থ্রিটি (3T)’ এবং অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কিছু পর্যবেক্ষণ বা মতামত থাকতে পারে। সরকার এসব বিষয়কে আলোচনার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখছে। পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলমান বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কর্মসূচির ধরন ও শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আগামী কয়েক মাসের আলোচনার মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যক্রম সঠিক ও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আস্থার কথা সরকারের সরকারের নেওয়া সংস্কার কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলো কোনো প্রশ্ন তুলেছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারা এ ধরনের কোনো প্রশ্ন তোলেনি। তিনি জানান, সরকারের নেওয়া সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করা হবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে আইএমএফের সঙ্গে চলমান আলোচনা ও সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নতুন কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
