|
সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বিশ্বব্যাংকের ঐকমত্য, ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি
সায়ীদ আবদুল মালিক, ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) থেকে
|
![]() সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বিশ্বব্যাংকের ঐকমত্য, ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি গতকাল মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বব্যাংক বুঝতে পারছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গে সংস্থাটির ঐকমত্য রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পরবর্তী কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে এবং বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে। ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলমান বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান আলোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে। এ নিয়ে ঢাকায়ও আলোচনা চলবে। তবে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরিতে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে পরিকল্পনার সামঞ্জস্য অর্থমন্ত্রী জানান, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নির্ধারণে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদ মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করতে পারবে বলে আশা করছে।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
