|
ক্ষুদ্র ব্যবসায় এআই ব্যবহারে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখছে বিশ্বব্যাংক
সায়ীদ আবদুল মালিক, ব্যাংকক থেকে
|
![]() ক্ষুদ্র ব্যবসায় এআই ব্যবহারে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা দেখছে বিশ্বব্যাংক সোমবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘স্মল এআই: মোর অ্যান্ড বেটার জবস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের অনলাইন প্রশ্নোত্তর পর্বে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ ভ্যালেন্টিনা ক্যালদেরন-মেজিয়া এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের বড় অংশের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ও স্বনিয়োজিত মানুষের ব্যবসা সম্প্রসারণে ছোট এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেও ব্যবসার মজুত ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকসেবা ও বিপণনের কাজে এ প্রযুক্তি কাজে লাগানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সহজলভ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা উঠে এসেছে। বাংলাদেশের মতো দেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, তরুণ কর্মী ও স্বনিয়োজিত মানুষের জন্য এ উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কম খরচে ব্যবসা পরিচালনায় এআই ‘স্মল এআই’ বলতে এমন ব্যবহারিক, সাশ্রয়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যা বড় বিনিয়োগ বা জটিল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ছাড়াই দৈনন্দিন কাজের উন্নতি করতে পারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায় পণ্যের মজুতের হিসাব রাখা, বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ, ক্রেতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং পণ্যের প্রচারে এআই ব্যবহার করা যায়। এতে উদ্যোক্তারা কম সময়ে বেশি কাজ করতে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে মনোযোগ দিতে পারেন। ব্যবসার পরিধি বাড়লে নতুন কর্মীর চাহিদাও তৈরি হতে পারে। তবে উৎপাদনশীলতা বাড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এআইয়ের মাধ্যমে কিছু কাজ সহজ বা স্বয়ংক্রিয় হয়ে গেলে নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমতে পারে। অন্যদিকে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার ফলে নতুন ধরনের কাজ ও দক্ষতার চাহিদা তৈরি হতে পারে। তাই এআইয়ের সুফল কাজে লাগাতে কর্মীদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষায় এআই শিক্ষকদের সহায়ক অনুষ্ঠানে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ গোরিউনোভা বলেন, এআইয়ের কাজ হওয়া উচিত শিক্ষকদের সহায়তা করা, তাঁদের জায়গা দখল করা নয়। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে শেখার সহায়তা দেওয়া, পাঠ পরিকল্পনা তৈরি এবং শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজের চাপ কমাতে কম খরচের এআই ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। শিশুদের ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়েও সতর্কতার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। শিশুদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা, শেখার আগ্রহ ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান এবং এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই করার সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়। তথ্য সুরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এআই ব্যবহারের সময় গ্রাহকের তথ্য, ব্যবসায়িক নথি ও প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন দক্ষিণ আফ্রিকার একজন অংশগ্রহণকারী। জবাবে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ সামীক্ষা খারে বলেন, পূর্ণাঙ্গ এআই-সার্বভৌমত্ব অর্জন ব্যয়বহুল হতে পারে এবং প্রযুক্তিগত বিভাজন বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি উন্মুক্ত মানদণ্ড, বিভিন্ন প্রযুক্তিব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং যৌথ অবকাঠামো ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা, শিক্ষার মান এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, কৃষি, তৈরি পোশাক, ব্যাংক ও বীমাসহ বিভিন্ন খাতে এআই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এ প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যবসা পরিচালনা, বিপণন ও গ্রাহকসেবার মান উন্নত করতে পারেন। পাশাপাশি কর্মীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো গেলে নতুন ধরনের কাজের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এআই ব্যবহারের সুফল পেতে প্রযুক্তির সহজলভ্যতার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, প্রশিক্ষণ, তথ্য সুরক্ষা এবং বাস্তব প্রয়োগের ফলাফল মূল্যায়ন জরুরি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযুক্তির ব্যয় ও ব্যবহারগত জটিলতা কমানো গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান লক্ষ্যমাত্রা বা নতুন আর্থিক সহায়তা ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এআইয়ের সুফল কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, সেটিই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। অনুষ্ঠানের নেতৃত্বপর্বে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম এবং আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা অংশ নেন। আলোচনায় এআইয়ের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি আরও বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
