টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের কার্যক্রম বন্ধের দাবি বাবুনগরীর
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 24 October, 2026, 8:21 PM
টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের কার্যক্রম বন্ধের দাবি বাবুনগরীর
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের ইজতেমা ও তাবলিগি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী।
একই সঙ্গে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের দাবি তুলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠসংলগ্ন টিনশেড সবুজগাড়ী পয়েন্টে আয়োজিত জাতীয় পরামর্শ সভা ও সংবাদ ব্রিফিং থেকে সরকারের কাছে এসব দাবি জানানো হয়।
বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে আয়োজন এবং মাঠ ব্যবহারে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার শীর্ষ আলেম, মাদ্রাসার মুহতামিম ও তাবলিগ জামাতের মুরব্বিরা অংশ নেন।
সভা শেষে লিখিত বক্তব্যে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহল থেকে তাঁকেসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও তাবলিগের মুরব্বিদের অনুরোধ জানানো হচ্ছিল। এ বিষয়ে আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় এই পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দুটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের কোনো ইজতেমা বা তাবলিগি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না দেওয়া এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিলের ব্যবস্থা করা।
বক্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলা দুটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন। তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
আলেমদের বক্তব্য, বিশ্ব ইজতেমার ধর্মীয় পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ আয়োজন নিশ্চিত করা তাঁদের এই অবস্থানের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জামিয়া ফরিদাবাদের মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটির আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীরসাহেব মধুপুর), হাটহাজারী মাদ্রাসার মুফতি জসিমউদ্দীন, পটিয়া মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা ইকরাম হুসাইন ওয়াদুদী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
আরো উপস্থিত ছিলেন, নানুপুর মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা সালাহ উদ্দীন, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, আকবর কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক মুফতি দেলোয়ার হুসাইন, আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।
এছাড়া জামিয়া আরজাবাদের মুহতামিম মাওলানা বাহা উদ্দীন জাকারিয়া, হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শীর্ষস্থানীয় আলেম ও তাবলিগের মুরব্বিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।