বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অন্যতম সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক)হাসপাতালের নানান অনিয়ম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চ। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১১টায় হাসপাতাল গেইটে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী চলমান এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত নানান অনিয়ম অব্যবস্থাপনার চিত্র তোলে ধরেন। বিক্ষোভেবক্তারা বলেন, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার ভুলুণ্ঠিত মমেক হাসপাতালে। দীর্ঘ বৎসর যাবত অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ময়মনসিংহের গণমানুষের ভরসাস্থল এই হাসপাতালটিকে গ্রাস করেছে। খেটে খাওয়া গণমানুষ যেন এখানে চিকিৎসা পায় তা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। বক্তারা বলেন, ভুক্তভোগী রোগীরা প্রয়োজনীয় ঔষধ হাসপাতাল থেকে পান না। প্রায় ঔষধই বাহির থেকে কিনে আনতে হয়। এমনকি একটি সাধারণ স্যালাইনও বাহির থেকে কিনে আনতে হয়। যার সাক্ষী স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই। গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি একজন নারী রোগীকে এক হাজার টাকা দিয়েছেন স্যালাইন কিনে আনতে। এরচেয়ে অব্যবস্থাপনার লজ্জাজনক চিত্র আর কি হতে পারে বলে বক্তাগণ প্রশ্ন রাখেন। এর থেকে উত্তরন দরকার। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা যেন ঔষধ পান তা নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন টেস্ট পরীক্ষা করাতে হয। মমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরকে প্রায় সকল টেস্ট পরীক্ষা বেসরকারিভাবে করাতে হয়। সবই যদি বাহিরে করাতে হয় তাহলে সরাকারি মমেক হাসপাতাল কিসের জন্য সে প্রশ্নটি রাখেন বক্তাগণ। বৎসরের পর বৎসর নানান যন্ত্রপাতি বিকল হযে পড়ে রয়েছে। মেরামত/নতুন করে ক্রয়ের কোন সন্তোষজনক উদ্যোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়েছে কি? কেন বছরের পর বছর যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে থাকবে? দু'তিন দিন ঘুরেও একজন রোগী একটি এক্সরে করাতে পারেন না। এমন তো হওয়ার কথা নয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের গণমানুষের ভরসাস্থল এই হাসপাতালটিতে। কিন্তু দূ:খজনক হলেও সত্যি, এমনই নেতিবাচক চিত্র দৃশ্যমান। যা কখনো কাম্য হতে পারে না। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘবৎসরের পুঞ্জিভূত সমস্যায় জর্জরিত হাসপালটিতে পাচার চক্র সক্রিয় বলে গণমাধ্যমে সময়ে সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যেখানে প্রয়োজনীয় ঔষধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ভুক্তভোগী রোগীরা পান না সেখানে এমন সংবাদ ময়মনসিংহবাসীকে চরমভাবে মর্মাহত করে। কোন পাচার চক্র যাতে হাসপাতালটিতে সক্রিয় থাকতে না পারে সে ব্যাপারে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এবং এমন চক্র চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বক্তারা বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে হাসপাতালে সংঘটিত অগ্নিকান্ডের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশে গড়িমসি করছে। এটা হাসপাতালের কোন একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয়ের তদন্ত নয় যে প্রকাশের কোন প্রয়োজন নেই। এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসংশ্লিষ্ট বিষয়ের। চিকিৎসাধীন রোগীরা হতাহত হয়েছেন, আতঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাই গড়িমসি না করে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করতেই হবে। বক্তারা আরো বলেন, গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত লিফট খাতটি দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে। সম্প্রতি দৈনিক সমকালে দুর্নীতির সার্বিক চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। হাসপাতালে আগত রোগী ও স্বজনরা চরম ভোগান্তির সম্মূখীন। এই লিফট থেকেই গত সেপ্টেম্বর মাসে অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছিল। লিফট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফিরাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া বা অবহেলার কোন অবকাশ নেই। মমেক হাসপাতালকে জনবান্ধব হাসপাতালে উন্নিত করার জন্য সংশিষ্ট সকলকে উদাত্তা আহবান জানানো হয় বিক্ষোভ সমাবেশে। যাতে ময়মনসিংহের গণমানুষ তার মৌলিক অধিকার নিশ্চিতভাবে পায়। সংগঠনের মূখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সহ-মূখ্য সমন্বয়ক আবু বক্কর সিদ্দিক রুমেল, সংগঠক আব্দুল হান্নান আল আজাদ, শাহরিযার আহমেদ আশিক, সাদ্দাম হোসেন, তানজিল হোসেন মুণিম, সজীব আকন্দ, সুশান্ত শীল, মো: আসাদ প্রমূখ।