ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩
বিমান চলাচলের টেকসই উন্নয়নে নিরাপত্তা ব্যয় নয়, বরং জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 28 October, 2026, 9:10 PM
সর্বশেষ আপডেট: Wednesday, 28 October, 2026, 9:50 PM

বিমান চলাচলের টেকসই উন্নয়নে নিরাপত্তা ব্যয় নয়, বরং জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

বিমান চলাচলের টেকসই উন্নয়নে নিরাপত্তা ব্যয় নয়, বরং জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে কেবল একটি পরিচালন ব্যয় হিসেবে না দেখে মানুষের জীবন, মূল্যবান সম্পদ এবং জাতীয় অগ্রগতি সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি। তিনি বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল শুধু দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয় নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, যাত্রীদের আস্থা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬ (আইএফএসএস-২০২৬)-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের অপার সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিমানবন্দর, টার্মিনাল ও এয়ার নেভিগেশন ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে জাতীয় বিমান সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি নিরাপত্তাকে কেবল নিয়ম মেনে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুদৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এ বছরের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘Technology, Training and Teamwork: Creating a Future-Ready Safety Mindset.’এই প্রতিপাদ্যের আলোকে ভবিষ্যৎ উপযোগী ফ্লাইট সেফটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, দলগত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ এবং নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেমিনারে ২১টি দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মানুষের জীবন ও মূল্যবান সম্পদের সুরক্ষা, অপারেশনাল প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নে ফ্লাইট সেফটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রযুক্তির ক্রমাগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুদৃঢ় উড্ডয়ন নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা, পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA)-এর প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

সেমিনারে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

তিন দিনব্যাপী সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীরা ফ্লাইট সেফটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করেন। এতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, হিউম্যান ফ্যাক্টর, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানব-প্রযুক্তির সমন্বয়, দলগত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি চর্চা, উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও সুদৃঢ়  নিরাপত্তায় বিনিয়োগ কেবল বর্তমানের প্রয়োজন মেটায় না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সমৃদ্ধ বিমান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করে। মানুষের জীবন ও জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও এ বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা, দক্ষতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য সেমিনারের মূল বার্তাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status