|
গোসল করে যাওয়ায় ধর্ষণের মামলা নিলেন না ওসি
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() গোসল করে যাওয়ায় ধর্ষণের মামলা নিলেন না ওসি ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন মো. ইমরান প্যাদা (৩৮) ও রাকিব প্যাদা (২৬)। ইমরান ভুক্তভোগীর স্বামীর সৎভাই এবং রাকিব তার চাচাশ্বশুর। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে ইমরান তাকে বাজারে নিয়ে যান। পরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে ইমরান ও রাকিব তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে লিগ্যাল এইড অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় যান তিনি। ভুক্তভোগীর দাবি, থানায় ওসি আদিল হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অভিযোগ গ্রহণ না করে উল্টো তাকে ভয়ভীতি দেখান। এ সময় ওসি বলেন, ধর্ষণের কোনো প্রমাণ নেই এবং গোসল করার কারণে আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তারই সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। এ ছাড়া অভিযুক্ত ইমরানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে তার সঙ্গে উপহাস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী। তবে ভুক্তভোগীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন। তার ভাষ্য, দু-এক দিন আগে ওই নারী তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তারা ধর্ষণের কোনো আলামত দেখাতে পারেননি। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে কিছুক্ষণ পর জানাবেন বলে তারা থানা থেকে চলে যান। এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইমরান ও রাকিব পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বক্তব্য জানতে বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর স্বামী জীবন প্যাদা, শ্বশুর সুলতান প্যাদা ও শাশুড়ি ফাতেমা বেগম এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাসুদ হাসান বলেন, বিচার চাইতে গিয়ে একজন নারী যদি সুরক্ষার পরিবর্তে ভয়ভীতির মুখে পড়েন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ওসি মামলা গ্রহণ না করে থাকলে কিংবা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
