ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ● ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
ইমতিয়াজ আহমেদ , নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: Saturday, 31 October, 2026, 3:05 PM

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির তীর্থকেন্দ্র প্রাচ্যেরডান্ডি নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর  কেন্দ্রীয় কবরস্থান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শেষ ঠিকানা হিসেবেই কবরস্থানটি পরিচিতি লাভ করেছে। । এখানে ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে পাশাপাশি রয়েছে মুসলিমদের কবরস্থান, হিন্দুদের শ্মশান ও খ্রিস্টানদের কবরস্থান। নারায়ণগঞ্জ নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডে মাসদাইরে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের কবরস্থান এবং হিন্দুদের শ্মশানের পাশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। চার ধর্মের মানুষের দাফন ও শেষকৃত্যের ব্যবস্থা পাশাপাশি গড়ে তুলে এই স্থানকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ধর্মীয় সম্প্রীতির এই স্থানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছেও বলে জানান তিনি। তার আশা, স্বীকৃতি পাওয়া গেলে নারায়ণগঞ্জের নাম বিশ্বদরবারে নতুনভাবে পরিচিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিবাচক চিত্রও উঠে আসবে।

নগরীর মাসদাইর এলাকায় প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে পাশাপাশি রয়েছে মুসলিমদের কবরস্থান, হিন্দুদের শ্মশান ও খ্রিস্টানদের কবরস্থান। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শেষকৃত্যও এখানে হয়ে আসছে বলে স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে এসেছে। এবার তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ দিয়ে নিজস্ব ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্যের স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা হলে চার ধর্মের মানুষের শেষকৃত্যের পৃথক স্থান পাশাপাশি থাকবে। এই বৈশিষ্ট্য সামনে রেখে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার, উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিষয়টি ব্যতিক্রমভাবে তুলে ধরা এবং নিয়ম অনুসারে জন্মস্থানটি গিনিস বুকে স্বীকৃতি পায় সেজন্য সব ধরনের নিয়মাবলী মেনে কাজ করতে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মুখে প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, ব্রিটিশ বা পাকিস্তান সরকারের আমলে হরকান্ত ব্যানার্জি নামে এক জমিদার মৃত্যুর পর তার ছেলেকে বাবার শেষকৃত্যের জন্য অন্য জেলায় যেতে হয়েছিল।

সেই যাত্রায় ভোগান্তির অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের জন্য শেষকৃত্যের জায়গা নিশ্চিত করতে জমি দান করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে এই এলাকা বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শেষ বিদায়ের স্থান হয়ে ওঠে।

এখানকার সম্প্রীতি নিয়ে আগে দেওয়া বক্তব্যে ডিআইটি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল অন্য ধর্মাবলম্বীদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন।

নারায়ণগঞ্জ মহাশ্মশানের তৎকালীন সহসভাপতি শংকর সাহাও জানান, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় সাম্প্রদায়িক অতৎপরতাকে প্রশ্রয় দেয় না। এখানে যে সবাই মিলেমিশে রয়েছে এটা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

নারায়ণগঞ্জ জেলা খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পিন্টু পলিকাপ পিউরিফিকেশনও এখানে চার সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
 
তিনি বলেন, মৃত্যু সবার আসবে। এখানে একই দেয়ালের চারপাশে চার ধর্মের শেষ ঠিকানা ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status