বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আপিলের শুনানি কাল। আগামীকাল বেগম খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করা হবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে। এই রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়া না পাওয়া। কাল কি বেগম খালেদা জিয়া জামিন পাবেন?
খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরী হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দী হন। যে সময় বিএনপির নেতারা মনে করেছিলেন এই কারাবরণ হবে স্বল্পতম সময়ের জন্য। কিন্তু প্রায় দুই বছর হতে চললো বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাতেও তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। এই মামলায় তার সাজার মেয়াদ হাইকোর্টে বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো ৩৫টি বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার মামলা আদালতে চলছে। অবশ্য গত দের বছরে বেগম খালেদা জিয়ার ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৬ টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। কিন্তু জিয়া অরফানেজ মামলায় তার সাজা বাড়িয়ে হাইকোর্ট ১০ বছর করেছে সেই বিবেচনা থেকে এই মামলায় তিনি জামিন পাননি।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামালাতেও নিম্ন আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে দণ্ডিত করেছে এবং সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি আপিল করেছে, এখনও আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি। সর্বশেষ বিএনপির পক্ষ থেকে বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে জামিনের আবেদন করেছে। আপিল বিভাগ এই জামিন নিষ্পত্তির জন্য এ ব্যাপারে মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের অক্টোবর মাসে বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং তাঁর সরকারি হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার ভর্তি করান হয়। তখন থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার সমস্যার মধ্যে রয়েছে ডায়বেটিকস সমস্যা, তাঁর দাঁতের সমস্যা এবং বাতের ব্যাথা।
এর মধ্যে তাঁর দাঁতের সমস্যার সমাধান হয়েছে, ডায়বেটিকসও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বাতের ব্যাথার জন্য যে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন সেই চিকিৎসা নিতে খালেদা জিয়াই অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এই মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট কাল আদালতে দাখিল করা হবে বলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, এই মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে কি বেগম খালেদা জিয়া জামিন পাবেন? বিএনপি নেতারা মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়া যদি জামিন পায় তাহলে বিএনপির মধ্যে চাঞ্চল্যতা সৃষ্টি হবে আর সরকার এখন নানা রকম চাপের মধ্যে আছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারকে নতুন চাপে ফেলবে।
আবার বিএনপির অন্য একটি পক্ষ বলছে, হয়তো শেষ পর্যন্ত বেগম জিয়াকে জামিন দেওয়া হবে। বেগম জিয়াকে জামিন দেওয়া না হলে বিএনপি একদফার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। এমন ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন।
যদিও বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, এ ধরনের ঘোষণার সঙ্গে দলীয় কোনো সিদ্ধান্তের সম্মতি নেই। শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার জামিন যদি না হয় তাহলে বিএনপি কি করবে সেটা দেখার বিষয়।
তবে বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাক না পাক ৫ ডিসেম্বর হবে একটি টার্নিং পয়েন্ট। কারণ বিএনপি মনে করছে খালেদা জিয়ার জামিন হোক না হোক দুটোতেই তাদের লাভ। জামিন না হলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বেগমান আন্দোলন করতে পারবে। আর মুক্তি হলেও বিএনপি চাঙ্গা হবে। এখন শেষ পর্যন্ত বিএনপি কোন পথে যাবে তা অনেকাংশে নির্ভর করছে ৫ ডিসেম্বর আদালতের রায়ের উপর।