চা-কফি বা গরম পানি খেলে ভাইরাস দূর হয়, সত্যি নাকি মিথ্যা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 8 April, 2020, 5:34 PM
চা-কফি বা গরম পানি খেলে ভাইরাস দূর হয়, সত্যি নাকি মিথ্যা
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। এর থেকে কীভাবে নিরাপদে থাকা যায়, তা নিয়ে এখন যেন নানা মুনির নানা মত! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বর্তমানে এ নিয়ে নানা ধরণের পরামর্শ ভেসে বেড়াচ্ছে।
এসব পরামর্শের পেছনে আসলেই কি কোনো সত্যতা রয়েছে নাকি শুধু ভ্রান্ত ধারণা এসব তা কিন্তু কেউ যাচাই করছে না। যেমন- গরম পানি পান করলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা যেতে পারে। এই বার্তাটি বিশ্বব্যাপী এতোটাই ছড়িয়ে পড়ে যে, ইউনিসেফ এ বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করতে বাধ্য হয়ছে। তারা বলছে, এরকম কোনো ঘোষণা তারা দেয়নি।
যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ রন একেলিসের মতে, গরম পানীয় ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে, এমন কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। ঠাণ্ডা বা ফ্লুতে ভোগার সময় ঠাণ্ডা পানি খেলে শরীরে কী ঘটে, তা নিয়ে অতীতে গবেষণা করেছেন একেলিস। তিনি দেখতে পেয়েছেন, ঠাণ্ডা লাগলে গরম পানীয় হয়তো খানিকটা স্বস্তি দিতে পারে। এর কারণ হয়তো গরম পানীয় মুখ ও নাকের লালা এবং শ্লেষ্মা এর নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে প্রদাহ কমে যায়।
বর্তমানে কোভিড-১৯ ব্যাধি মহামারি আকারে পৌঁছেছে। এর বিপক্ষে কোনো ধরণের প্রতিরক্ষাই দিতে পারে না খাবার পানি। এক্ষেত্রে ঠাণ্ডা বা গরম কোনো ধরণের পানি খেলে বা গার্গল করলেও এই ভাইরাস ধুয়ে যায় না। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ক্ষুদ্র আকারের এই ভাইরাস নাক বা মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে অন্যকে সংক্রমিত করে।
প্রথমত এটি মানুষের ফুসফুসের কোষগুলোকে আক্রমণ করে। সেখানকার কোষগুলো এমন একটি এনজাইম ব্যবহার করে, যা ব্যবহার করে ভাইরাস ফুসফুসের ভেতরে প্রবেশ করে। শ্বাসের সঙ্গে এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফোঁটা ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে যায়- যেখান মুখ থেকে যাওয়া যে কোনো তরল পৌঁছানো সম্ভব। একবার শরীরে প্রবেশ করার পর ভাইরাস খুব দ্রুত মানব শরীরের কোষের ভেতরে চলে গিয়ে নিজের অনেকগুলো কপি করতে তৈরি করে।
ফলে এটিকে মুছে বা ধুয়ে ফেলার যেকোনো চেষ্টা থেকেই সেটা নিজেকে রক্ষা করতে পারে। প্রথমদিকের কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রথম কোষটি সংক্রমিত করার পরে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়তে ভাইরাসের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লাগে। একইভাবে, আমাদের শরীরের কোষে প্রবেশ করার পর বাইরের যে কোনো রকম তাপমাত্রা থেকে ভাইরাসটি নিজেকে রক্ষা করতে পারে। মানবশরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট), যা ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি ও বিস্তারের জন্য আদর্শ। ফলে গলার মধ্যে গরম পানির গড়গড়া করো কোষের ভেতরে থাকা ভাইরাস হত্যা করা যায় না।
এজন্য ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অথবা তার বেশি তাপমাত্রা দরকার, যা সার্সের মতো করোনাভাইরাস হত্যা করতে পারে। অবশ্য কিছু পরীক্ষায় বলা হয়েছে, এই তাপমাত্রা হওয়া উচিত ৬০ থেকে ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। তবে যে ভাইরাসের কারণে কোভিড-১৯ সংক্রমণ হয়েছে, সেই ভাইরাসটি কত ডিগ্রি তাপমাত্রা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, তা নিয়ে এখনো কোন গবেষণা প্রকাশিত হয়নি।